রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৩

নরমাংশভোজী এক সাইকো তরুণ

ভয়াবহ এক কাহিনী । পড়ে আপনার
রোম দাড়িয়ে যাবে,

শুরুটা কিভাবে করব ঠিক
বুঝতে পারছি না ।
কি পরিচয় দেব নিজেকে ?
আমি নিজেকে মনে করি একজন
মানুষ , খুব সাধারন একজন মানুষ ।
কিন্তু লোকেরা আমাকে ডাকে পিশাচ
বলে ।
খুব খাপছাড়া লাগছে ! তাই না ?
খুলেই বলি তাহলে । আমার নাম
ফ্রয়েড । শৈশবের স্মৃতিটা আমার
খুব একটা মনে নেই । যা আছে , তা হল , একদিন
বাবাকে দেখলাম ,
মাকে গলা কেটে খুন করতে !
বাবা তারপর মায়ের পেট
চিড়ে কলিজা বের করে । হিংস্র
মাংসাশী পশুর মত মায়ের রক্ত পান করল বাবা । গ্রামের
লোকেরা ঘটনা জানার পর
বাবাকে পুড়িয়ে মারে , আর
আমাকে করে গ্রামছাড়া ।
অন্য গ্রামে ঠাই হয় আমার ।
ভিক্ষাবৃত্তিই হল আমার বাচার একমাত্র অবলম্বন ।
একদিন রাতে ক্ষুধা তৃষ্ণায় কাতর
হয়ে হাঁটছিলাম রাস্তায় ।
হাতে একটা পয়সাও জোটেনি আজ ।
রাস্তায় আমার মত আরও দু
চারটা ভবঘুরে ছেলেমেয়েও আছে । রাস্তার
পাশে ফুটপাতে দেখলাম
একটা বাচ্চা মেয়ে শুয়ে আছে ।
নোংরা কাথা গায়ে দিয়ে । হঠাৎ
আমার কি হল জানিনা । ঘৃণা ,
প্রচণ্ড এক ঘৃণা জেগে উঠল আমার মনে । রাস্তা থেকে বড়
একটা পাথর
কুড়িয়ে ঝাপিয়ে পড়লাম মেয়েটার
উপর । ভীষণ
চমকে মেয়েটা চিৎকার
দিয়ে উঠল । পাথরের দু ঘায়ে ফাটিয়ে দিলাম মাথার
খুলি । টেনে খুলে ফেললাম মাথার
বা পাশের হাড় ।
গলগল করে বেরিয়ে এল উষ্ণ
তাজা রক্ত । উষ্ণ ,
নোনা রক্তে ভিজিয়ে নিলাম গলা
। মগজটা টেনে বের করলাম
। কামড়ে কামড়ে খেয়ে ফেললাম
পুরোটা ।
এরপর থেকেই
প্রতি রাতে চলতে লাগলো আমার
নরমাংশ ভোজন । কিছুদিন পর
আমাকে সে এলাকা ছাড়তে হল ।
মানুষ
সেখানে সাবধানী হয়ে উঠেছে ।
রাতে বিশেষ পাহাড়া দেয়ার
ব্যবস্থা করল তারা । অন্য এলাকায় গিয়ে এক কশাই এর
দোকানে চাকরি পেয়ে গেলাম ।
রক্ত আর কাচা মাংশ আমাকে সব
সময় আকর্ষণ করে । কশাই এর
কাজটা তাই শুধু মনোযোগ
দিয়ে না , আনন্দের সাথেই করতে লাগলাম । শুকরের মাংস আর
কলিজা সরাতে লাগলাম
পাইকারি হারে । একদিন
ধরা পড়লাম হাতে নাতে ।
পিটিয়ে বের করে দিল আমাকে ।
আবার ফিরে এলাম নিজ গায়ে । এরই মধ্যে কেটে গেছে প্রায়
পনেরটি বছর । কেউ
আমাকে চেনেনা । আগের
ঘটনাগুলো সবাই ভুলে গেছে ।
আমাদের
বাড়িটা পুড়িয়ে দিয়েছিল গ্রামের লোকেরা । পোস্ট
মাস্টারের একটা কাজ
পেয়ে গেলাম ।
শুরু হল আমার নতুন জীবন ।
এবার শুধু মাংশের চাহিদা নয় ,
বিকৃত যৌন চাহিদাও পূরণ করতে লাগলাম ।
যুবতী তরুণীরা ছিল আমার শিকার
। যৌন সুখের পর খুন করতাম ওদের
। তার পর বুক চিরে কলিজা আর
হৃৎপিণ্ড খেতাম ।
একবার এক গর্ভবতী মহিলাকে ধরেছিলাম ।
জননাঙ্গ দিয়ে লোহার রড
ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম । পেট
চিরে দেখলাম , জরায়ু
ছিড়ে একটা বাচ্চার মাথা বের
হয়ে এসেছে । মহিলার চেয়ে বাচ্চাটাকেই সুস্বাদু
মনে হয়েছিল বেশি ।
প্রায় হাজার খানেক খুন
করেছি আমি ।

কিন্তু ধরা পড়ে গেলাম আজ ।
একটা বাচ্চাকে চুরি করে নিয়ে এ ।
অনেক আগে থেকেই লোকজন
আমাকে সন্দেহ করা শুরু করেছিল ।
আরও সচেতন হওয়া উচিৎ ছিল
আমার ।
ঐ তো ! বারান্দায় লোকদের পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে । সময়
আর বেশী নেই । দরজা ভাঙার
শব্দ শুনতে পাচ্ছি

। [ দরজা ভাঙার পর ঘরে কাউকে খুজে পাওয়া যায়নি । শুধু টেবিলের উপর একটা নীল রঙের খাতা পাওয়া গিয়েছে । সেটাতেই ফ্রয়েড কথা গুলো লিখেছিল । এরপর ফ্রয়েডকে আর কোথাও দেখা যায়নি 
লিখেছেন - আহমাদ মুনিরুল হক
( ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ) ।
 

শনিবার, ১৫ জুন, ২০১৩

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: ভৌতিক গল্প (সত্য ঘটনা অবলম্বনে), দুর্বল হৃদয়ের মানুষ এড়িয়ে যেতে পারেন!



জায়গীর বাড়ির এই রুমটি রফিকের ভারী পছন্দ । সুন্দর-পরিপাটি করে নিজ হাতে সাজানো । শোয়ার বিছানা আর পড়ার টেবিল বাদ দিলে তেমন কোনো আসবাবপত্র নেই রুমে । পুরো রুমটিতে একটি মাত্র খুঁত– বিছানার ঠিক উপরে টিনের চালের সাথে রক্সি পেইন্টের খালি একটা কৌটা বেঁধে রাখা, বৃষ্টির পানি জমে সেই কৌটায় ।

ঘোর বর্ষাকাল এখন, সময়-অসময়ে বৃষ্টি নামে । এতো জায়গায় থাকতে ঠিক মাথার বালিশ বরাবর টিনে ছিদ্র কেন হলো– এই চিন্তায় রফিকের মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো । মেজাজ খারাপ হলে তার মুখে থুথু আসে, মুখে এক গাদা থুথু নিয়ে রফিক মুখ কালো করে বসে আছে । থুথু ফেলতে হলে ঘর থেকে বের হতে হবে, কিন্তু বিছানা থেকে নামতে ইচ্ছে করছে না তার । খানিক বাদে থু' করে মাটির মেঝেতে থুথু ফেলার চেষ্টা করলো রফিক, কপাল খারাপ তার– থুথু গিয়ে পড়লো তার স্যান্ডেলের ওপর ।

বিরস মুখে স্যান্ডেলে পড়া থুথু দেখছে রফিক, আজকে সব কিছু এমন উল্টোপাল্টা হচ্ছে কেন– এটাই ধরতে পারছে না সে!

ঘড়িতে রাত ১১ টা ৪০ বাজে । থুথুওয়ালা স্যান্ডেল পরে রফিক ঘর থেকে বেরোলো । স্কুল মাঠের দিকে হাঁটা দিলো সে । বিশাল এক চ্যালেঞ্জ নিয়েছে রফিক, জিততে পারলে নগদ ১০০০ টাকা । এই টাকার লোভই মধ্যম প্রকৃতির ভীতু রফিককে অসীম সাহসী করে তুলেছে ।

কাজটি খুব বড় কিছু না, জায়গীর বাড়ির উত্তরে বিশাল কবরস্থান, সপ্তাহ দুই আগে মুন্সী বাড়ির শহীদ মুন্সীর কবর দেয়া হয়েছিল সেখানে । দুই সপ্তাহে এই নিয়ে তিনবার কবর ভাঙ্গলো বৃষ্টির পানির স্রোতে । রফিকের বন্ধুদের আবার ভিন্ন ধারণা, অশরীরী কিছু একটা আছে ওখানে ।

কবরস্থানের পাশ ঘেঁষে মাটির রাস্তা, গত পরশু রাতে বাজার থেকে বন্ধুদের সাথে ফেরার সময় দেখা গেলো ভাঙ্গা কবরের ভেতর শহীদ মুন্সীর দাঁত চকচক করছে । তখনি বাজির কথা উঠলো, রাত ১২ টার সময় কবর থেকে মুন্সীর দাঁতের পাটি তুলে আনতে পারলে নগদ ১০০০ টাকা । রফিক সাহসের সাথে বাজি ধরেছে, স্কুলের মাঠের দিকে এতো রাতে যাবার কারণ সেটাই ।

সিদ্ধান্ত হলো মড়ার দাঁতের পাটি নিয়ে রফিক হেঁটে স্কুলের মাঠেই ফেরত আসবে । টাকা নগদে দেয়া হবে– রফিককে আশ্বস্ত করলো মামুন, টাকা নিয়ে মামুনরা অপেক্ষায় থাকবে ।

বুকে ফু দিয়ে আল্লাহর নাম নিয়ে রওনা করলো রফিক, সাথে লাইট জাতীয় কিছু নেয়া যাবে না । ঘুটঘুটে অন্ধকারে কবরস্থানের দিকে পা চালালো সে । কবরস্থানের মাথায় এসে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নেয়ার কথা ভাবলো রফিক, প্রথম ভয়টা পেল ঠিক তখুনি ।

মেঘলা আকাশে হঠাত বিকট শব্দ করে বিদ্যুত চমকালো, মুহুর্তের আলোয় রফিক পাঁচ হাত সামনে কুচকুচে কালো একটি বিড়াল দেখতে পেল । বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠলো তার, বিড়ালের জ্বলজ্বল করা চোখ এখনো পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে ।
ধুম করেই বৃষ্টি নামলো । পিচ্ছিল মাটিতে আঙ্গুল টিপে হাঁটতে হাঁটতে আরেকবার দুনিয়া ভেঙ্গে বাজ পড়লো । রফিকের মনে হলো বাজ বোধহয় মুন্সীর কবরের কাছেই পড়লো! কানে তালা লেগে গেলো রফিকের, আঙ্গুল দিয়ে কান ঝাঁকানোর সময় আরো চারটি কালো বিড়াল আবিষ্কার করলো সে । কবরস্থানে ঢুকার পর এই প্রথম গা ছমছম করে উঠলো তার!

পাঁচ-পাঁচটি কালো বিড়াল হাতের বামে রেখে দোআ-কালাম পড়তে পড়তে এগিয়ে গেলো রফিক, বৃষ্টির গতি হুহু করে বাড়ছে । কোনাকুনি ১৫ হাতের মধ্যেই মুন্সীর কবর, আরো কয়েক হাত সামনে গিয়ে পেছন ফেরলো সে । তাজ্জব কাহিনী, বিড়ালের নাম-গন্ধ পর্যন্ত নেই! সামনে ফিরে এগুতে গিয়েই থমকে দাঁড়ালো রফিক, মুন্সীর কবরের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিড়ালগুলো, ফসফরাসের দাঁত বিড়ালগুলোর ঠিক সামনে!

মনে সাহস নিয়ে আরো কয়েক হাত সামনে গেলো রফিক, মাঝখানের বিড়ালটি শরীর হিম করা লম্বা ডাক দিলো । বিড়ালের ডাক না; অন্য কিছুর ডাক হবে, রফিকের জীবনে এতো হিংস্র কোনো কিছুর ডাক শুনে নি সে ।

রফিকের স্থির বিশ্বাস, এই পাঁচটি আর যাই হোক- বিড়াল অন্তত নয় । রফিকের বিশ্বাস প্রমান করতেই যেন 'প্রানীগুলো' কবরের ভেতর থেকে টানতে টানতে গোলাকার একটা কিছু নিয়ে ঠেলে দিলো সামনে । ঘোর অন্ধকারেও পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিলো– মুন্সীর মাথার খুলি সেটা! বৃষ্টির পানি দুই চোখের জায়গার ছিদ্র দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে । দুই সপ্তাহের মড়া, চুল-দাড়ি পঁচে নি এখনো ।

অনেক কষ্টে চুল কিংবা দাড়ি- কিছু একটা ধরে প্রানীগুলোর দিকে ছুড়ে মারলো খুলিটি সে, ক্ষুধার্ত পশুর মতো ওটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো প্রাণীগুলো, শুধু একটি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলো জ্বলজ্বল করা দাঁতের সামনে । মুরগির রানের মতো মটমট করে মুন্সীর খুলি খাচ্ছে চারটে বিড়াল– চোখের সামনে এই দৃশ্য দেখে জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা তার, শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা কিছু একটা বয়ে গেলো রফিকের ।

এখান থেকে আর যাই হোক- ফিরে যাওয়া চলবেন না, রফিক ঠিক করে ফেললো । নিচু হয়ে মাটির মধ্যে হামাগুড়ি দিয়ে এগোলো সে, লম্বা করে শ্বাস নিলো দাঁতের পাটি ছোঁ মেরে নেয়ার আগে । তক্ষুনি কড়কড় শব্দে বাজ পড়লো আরেকবার, বিদ্যুতের ঝলকানিতে মুন্সীর খুলিবিহীন শরীর থরথর করে কাঁপছে!

মুহুর্তেই ছোঁ মেরে দাঁতের পাটি টান মেরে ঝেড়ে দৌড় দিলো রফিক । উর্ধ্বশ্বাসে দৌড়াতে দৌড়াতে পেছন ফিরে তাকিয়ে মূর্ছা যাবার দশা তার, পাঁচটি প্রাণীই তীব্র বেগে পিছু নিয়েছে । সমানে পা চালালো রফিক, ওই যে স্কুল ঘরের আলো দেখা যাচ্ছে । শেষ দমটুকু নিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে রফিক, ডান হাতে শক্ত করে ধরে রেখেছে দাঁতের পাটি । তীব্র বৃষ্টির মধ্যে হঠাত করেই আশেপাশের সব কিছু অন্ধকার হয়ে এলো তার কাছে, স্কুল ঘরের কোনায় গিয়ে জ্ঞান হারালো রফিক!

পাদটিকা: পরেরদিন বাদ জোহর মুন্সীর ভেঙ্গে যাওয়া কবর আবার বাঁধানো হলো । রফিকের শরীর ভেঙ্গে জ্বর আসছে, তারপরেও সবার সাথে এসেছে সে । মুন্সীর খুলি পাওয়া গেলো কবরের থেকে ১০/১২ দক্ষিনে, মানুষজন নানা কথা বলছে । মামুনদের সাথে চোখাচোখি হতেই চোখ নামিয়ে নিলো রফিক, জ্ঞান ফেরার পরে সব বলেছে সে তাদের ।

সব শেষ করে আসরের নামাজের পরে বাড়ি ফিরল রফিক । বালিশের নিচ থেকে ১০০ টাকার ১০টা চকচকে নোট নিয়ে আয়নার সামনে গিয়ে মুখের কাছে ধরলো রফিক । কান পর্যন্ত হাসি টেনে টাকাগুলো পকেটে চালান করে দিয়ে আয়নার দিকে তাকাতেই ভয়ে কুঁকড়ে গেলো সে । আস্তে করে মুখের ভেতর হাত দিলো সে, সামনের মাড়ির মাঝখানের দুটো দাঁত খুলে অবলীলায় হাতের সাথে চলে এলো ।

রক্তের চিহ্ন পর্যন্ত নেই সেখানে! দুটো দাঁতই শুকনো, মাটি লাগা; ঠিক শহীদ মুন্সীর দাঁতের মতো!!
javed kaisar