ভয়াবহ এক কাহিনী । পড়ে আপনার
রোম দাড়িয়ে যাবে,
শুরুটা কিভাবে করব ঠিক
বুঝতে পারছি না ।
কি পরিচয় দেব নিজেকে ?
আমি নিজেকে মনে করি একজন
মানুষ , খুব সাধারন একজন মানুষ ।
কিন্তু লোকেরা আমাকে ডাকে পিশাচ
বলে ।
খুব খাপছাড়া লাগছে ! তাই না ?
খুলেই বলি তাহলে । আমার নাম
ফ্রয়েড । শৈশবের স্মৃতিটা আমার
খুব একটা মনে নেই । যা আছে , তা হল , একদিন
বাবাকে দেখলাম ,
মাকে গলা কেটে খুন করতে !
বাবা তারপর মায়ের পেট
চিড়ে কলিজা বের করে । হিংস্র
মাংসাশী পশুর মত মায়ের রক্ত পান করল বাবা । গ্রামের
লোকেরা ঘটনা জানার পর
বাবাকে পুড়িয়ে মারে , আর
আমাকে করে গ্রামছাড়া ।
অন্য গ্রামে ঠাই হয় আমার ।
ভিক্ষাবৃত্তিই হল আমার বাচার একমাত্র অবলম্বন ।
একদিন রাতে ক্ষুধা তৃষ্ণায় কাতর
হয়ে হাঁটছিলাম রাস্তায় ।
হাতে একটা পয়সাও জোটেনি আজ ।
রাস্তায় আমার মত আরও দু
চারটা ভবঘুরে ছেলেমেয়েও আছে । রাস্তার
পাশে ফুটপাতে দেখলাম
একটা বাচ্চা মেয়ে শুয়ে আছে ।
নোংরা কাথা গায়ে দিয়ে । হঠাৎ
আমার কি হল জানিনা । ঘৃণা ,
প্রচণ্ড এক ঘৃণা জেগে উঠল আমার মনে । রাস্তা থেকে বড়
একটা পাথর
কুড়িয়ে ঝাপিয়ে পড়লাম মেয়েটার
উপর । ভীষণ
চমকে মেয়েটা চিৎকার
দিয়ে উঠল । পাথরের দু ঘায়ে ফাটিয়ে দিলাম মাথার
খুলি । টেনে খুলে ফেললাম মাথার
বা পাশের হাড় ।
গলগল করে বেরিয়ে এল উষ্ণ
তাজা রক্ত । উষ্ণ ,
নোনা রক্তে ভিজিয়ে নিলাম গলা । মগজটা টেনে বের করলাম
। কামড়ে কামড়ে খেয়ে ফেললাম
পুরোটা ।
এরপর থেকেই
প্রতি রাতে চলতে লাগলো আমার
নরমাংশ ভোজন । কিছুদিন পর
আমাকে সে এলাকা ছাড়তে হল ।
মানুষ
সেখানে সাবধানী হয়ে উঠেছে ।
রাতে বিশেষ পাহাড়া দেয়ার
ব্যবস্থা করল তারা । অন্য এলাকায় গিয়ে এক কশাই এর
দোকানে চাকরি পেয়ে গেলাম ।
রক্ত আর কাচা মাংশ আমাকে সব
সময় আকর্ষণ করে । কশাই এর
কাজটা তাই শুধু মনোযোগ
দিয়ে না , আনন্দের সাথেই করতে লাগলাম । শুকরের মাংস আর
কলিজা সরাতে লাগলাম
পাইকারি হারে । একদিন
ধরা পড়লাম হাতে নাতে ।
পিটিয়ে বের করে দিল আমাকে ।
আবার ফিরে এলাম নিজ গায়ে । এরই মধ্যে কেটে গেছে প্রায়
পনেরটি বছর । কেউ
আমাকে চেনেনা । আগের
ঘটনাগুলো সবাই ভুলে গেছে ।
আমাদের
বাড়িটা পুড়িয়ে দিয়েছিল গ্রামের লোকেরা । পোস্ট
মাস্টারের একটা কাজ
পেয়ে গেলাম ।
শুরু হল আমার নতুন জীবন ।
এবার শুধু মাংশের চাহিদা নয় ,
বিকৃত যৌন চাহিদাও পূরণ করতে লাগলাম ।
যুবতী তরুণীরা ছিল আমার শিকার
। যৌন সুখের পর খুন করতাম ওদের
। তার পর বুক চিরে কলিজা আর
হৃৎপিণ্ড খেতাম ।
একবার এক গর্ভবতী মহিলাকে ধরেছিলাম ।
জননাঙ্গ দিয়ে লোহার রড
ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম । পেট
চিরে দেখলাম , জরায়ু
ছিড়ে একটা বাচ্চার মাথা বের
হয়ে এসেছে । মহিলার চেয়ে বাচ্চাটাকেই সুস্বাদু
মনে হয়েছিল বেশি ।
প্রায় হাজার খানেক খুন
করেছি আমি ।
কিন্তু ধরা পড়ে গেলাম আজ ।
একটা বাচ্চাকে চুরি করে নিয়ে এ ।
অনেক আগে থেকেই লোকজন
আমাকে সন্দেহ করা শুরু করেছিল ।
আরও সচেতন হওয়া উচিৎ ছিল
আমার ।
ঐ তো ! বারান্দায় লোকদের পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে । সময়
আর বেশী নেই । দরজা ভাঙার
শব্দ শুনতে পাচ্ছি
। [ দরজা ভাঙার পর ঘরে কাউকে খুজে পাওয়া যায়নি । শুধু টেবিলের উপর একটা
নীল রঙের খাতা পাওয়া গিয়েছে । সেটাতেই ফ্রয়েড কথা গুলো লিখেছিল । এরপর
ফ্রয়েডকে আর কোথাও দেখা যায়নি
লিখেছেন - আহমাদ মুনিরুল হক
( ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ) ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন