রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৩

নরমাংশভোজী এক সাইকো তরুণ

ভয়াবহ এক কাহিনী । পড়ে আপনার
রোম দাড়িয়ে যাবে,

শুরুটা কিভাবে করব ঠিক
বুঝতে পারছি না ।
কি পরিচয় দেব নিজেকে ?
আমি নিজেকে মনে করি একজন
মানুষ , খুব সাধারন একজন মানুষ ।
কিন্তু লোকেরা আমাকে ডাকে পিশাচ
বলে ।
খুব খাপছাড়া লাগছে ! তাই না ?
খুলেই বলি তাহলে । আমার নাম
ফ্রয়েড । শৈশবের স্মৃতিটা আমার
খুব একটা মনে নেই । যা আছে , তা হল , একদিন
বাবাকে দেখলাম ,
মাকে গলা কেটে খুন করতে !
বাবা তারপর মায়ের পেট
চিড়ে কলিজা বের করে । হিংস্র
মাংসাশী পশুর মত মায়ের রক্ত পান করল বাবা । গ্রামের
লোকেরা ঘটনা জানার পর
বাবাকে পুড়িয়ে মারে , আর
আমাকে করে গ্রামছাড়া ।
অন্য গ্রামে ঠাই হয় আমার ।
ভিক্ষাবৃত্তিই হল আমার বাচার একমাত্র অবলম্বন ।
একদিন রাতে ক্ষুধা তৃষ্ণায় কাতর
হয়ে হাঁটছিলাম রাস্তায় ।
হাতে একটা পয়সাও জোটেনি আজ ।
রাস্তায় আমার মত আরও দু
চারটা ভবঘুরে ছেলেমেয়েও আছে । রাস্তার
পাশে ফুটপাতে দেখলাম
একটা বাচ্চা মেয়ে শুয়ে আছে ।
নোংরা কাথা গায়ে দিয়ে । হঠাৎ
আমার কি হল জানিনা । ঘৃণা ,
প্রচণ্ড এক ঘৃণা জেগে উঠল আমার মনে । রাস্তা থেকে বড়
একটা পাথর
কুড়িয়ে ঝাপিয়ে পড়লাম মেয়েটার
উপর । ভীষণ
চমকে মেয়েটা চিৎকার
দিয়ে উঠল । পাথরের দু ঘায়ে ফাটিয়ে দিলাম মাথার
খুলি । টেনে খুলে ফেললাম মাথার
বা পাশের হাড় ।
গলগল করে বেরিয়ে এল উষ্ণ
তাজা রক্ত । উষ্ণ ,
নোনা রক্তে ভিজিয়ে নিলাম গলা
। মগজটা টেনে বের করলাম
। কামড়ে কামড়ে খেয়ে ফেললাম
পুরোটা ।
এরপর থেকেই
প্রতি রাতে চলতে লাগলো আমার
নরমাংশ ভোজন । কিছুদিন পর
আমাকে সে এলাকা ছাড়তে হল ।
মানুষ
সেখানে সাবধানী হয়ে উঠেছে ।
রাতে বিশেষ পাহাড়া দেয়ার
ব্যবস্থা করল তারা । অন্য এলাকায় গিয়ে এক কশাই এর
দোকানে চাকরি পেয়ে গেলাম ।
রক্ত আর কাচা মাংশ আমাকে সব
সময় আকর্ষণ করে । কশাই এর
কাজটা তাই শুধু মনোযোগ
দিয়ে না , আনন্দের সাথেই করতে লাগলাম । শুকরের মাংস আর
কলিজা সরাতে লাগলাম
পাইকারি হারে । একদিন
ধরা পড়লাম হাতে নাতে ।
পিটিয়ে বের করে দিল আমাকে ।
আবার ফিরে এলাম নিজ গায়ে । এরই মধ্যে কেটে গেছে প্রায়
পনেরটি বছর । কেউ
আমাকে চেনেনা । আগের
ঘটনাগুলো সবাই ভুলে গেছে ।
আমাদের
বাড়িটা পুড়িয়ে দিয়েছিল গ্রামের লোকেরা । পোস্ট
মাস্টারের একটা কাজ
পেয়ে গেলাম ।
শুরু হল আমার নতুন জীবন ।
এবার শুধু মাংশের চাহিদা নয় ,
বিকৃত যৌন চাহিদাও পূরণ করতে লাগলাম ।
যুবতী তরুণীরা ছিল আমার শিকার
। যৌন সুখের পর খুন করতাম ওদের
। তার পর বুক চিরে কলিজা আর
হৃৎপিণ্ড খেতাম ।
একবার এক গর্ভবতী মহিলাকে ধরেছিলাম ।
জননাঙ্গ দিয়ে লোহার রড
ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম । পেট
চিরে দেখলাম , জরায়ু
ছিড়ে একটা বাচ্চার মাথা বের
হয়ে এসেছে । মহিলার চেয়ে বাচ্চাটাকেই সুস্বাদু
মনে হয়েছিল বেশি ।
প্রায় হাজার খানেক খুন
করেছি আমি ।

কিন্তু ধরা পড়ে গেলাম আজ ।
একটা বাচ্চাকে চুরি করে নিয়ে এ ।
অনেক আগে থেকেই লোকজন
আমাকে সন্দেহ করা শুরু করেছিল ।
আরও সচেতন হওয়া উচিৎ ছিল
আমার ।
ঐ তো ! বারান্দায় লোকদের পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে । সময়
আর বেশী নেই । দরজা ভাঙার
শব্দ শুনতে পাচ্ছি

। [ দরজা ভাঙার পর ঘরে কাউকে খুজে পাওয়া যায়নি । শুধু টেবিলের উপর একটা নীল রঙের খাতা পাওয়া গিয়েছে । সেটাতেই ফ্রয়েড কথা গুলো লিখেছিল । এরপর ফ্রয়েডকে আর কোথাও দেখা যায়নি 
লিখেছেন - আহমাদ মুনিরুল হক
( ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ) ।
 

শনিবার, ১৫ জুন, ২০১৩

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: ভৌতিক গল্প (সত্য ঘটনা অবলম্বনে), দুর্বল হৃদয়ের মানুষ এড়িয়ে যেতে পারেন!



জায়গীর বাড়ির এই রুমটি রফিকের ভারী পছন্দ । সুন্দর-পরিপাটি করে নিজ হাতে সাজানো । শোয়ার বিছানা আর পড়ার টেবিল বাদ দিলে তেমন কোনো আসবাবপত্র নেই রুমে । পুরো রুমটিতে একটি মাত্র খুঁত– বিছানার ঠিক উপরে টিনের চালের সাথে রক্সি পেইন্টের খালি একটা কৌটা বেঁধে রাখা, বৃষ্টির পানি জমে সেই কৌটায় ।

ঘোর বর্ষাকাল এখন, সময়-অসময়ে বৃষ্টি নামে । এতো জায়গায় থাকতে ঠিক মাথার বালিশ বরাবর টিনে ছিদ্র কেন হলো– এই চিন্তায় রফিকের মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো । মেজাজ খারাপ হলে তার মুখে থুথু আসে, মুখে এক গাদা থুথু নিয়ে রফিক মুখ কালো করে বসে আছে । থুথু ফেলতে হলে ঘর থেকে বের হতে হবে, কিন্তু বিছানা থেকে নামতে ইচ্ছে করছে না তার । খানিক বাদে থু' করে মাটির মেঝেতে থুথু ফেলার চেষ্টা করলো রফিক, কপাল খারাপ তার– থুথু গিয়ে পড়লো তার স্যান্ডেলের ওপর ।

বিরস মুখে স্যান্ডেলে পড়া থুথু দেখছে রফিক, আজকে সব কিছু এমন উল্টোপাল্টা হচ্ছে কেন– এটাই ধরতে পারছে না সে!

ঘড়িতে রাত ১১ টা ৪০ বাজে । থুথুওয়ালা স্যান্ডেল পরে রফিক ঘর থেকে বেরোলো । স্কুল মাঠের দিকে হাঁটা দিলো সে । বিশাল এক চ্যালেঞ্জ নিয়েছে রফিক, জিততে পারলে নগদ ১০০০ টাকা । এই টাকার লোভই মধ্যম প্রকৃতির ভীতু রফিককে অসীম সাহসী করে তুলেছে ।

কাজটি খুব বড় কিছু না, জায়গীর বাড়ির উত্তরে বিশাল কবরস্থান, সপ্তাহ দুই আগে মুন্সী বাড়ির শহীদ মুন্সীর কবর দেয়া হয়েছিল সেখানে । দুই সপ্তাহে এই নিয়ে তিনবার কবর ভাঙ্গলো বৃষ্টির পানির স্রোতে । রফিকের বন্ধুদের আবার ভিন্ন ধারণা, অশরীরী কিছু একটা আছে ওখানে ।

কবরস্থানের পাশ ঘেঁষে মাটির রাস্তা, গত পরশু রাতে বাজার থেকে বন্ধুদের সাথে ফেরার সময় দেখা গেলো ভাঙ্গা কবরের ভেতর শহীদ মুন্সীর দাঁত চকচক করছে । তখনি বাজির কথা উঠলো, রাত ১২ টার সময় কবর থেকে মুন্সীর দাঁতের পাটি তুলে আনতে পারলে নগদ ১০০০ টাকা । রফিক সাহসের সাথে বাজি ধরেছে, স্কুলের মাঠের দিকে এতো রাতে যাবার কারণ সেটাই ।

সিদ্ধান্ত হলো মড়ার দাঁতের পাটি নিয়ে রফিক হেঁটে স্কুলের মাঠেই ফেরত আসবে । টাকা নগদে দেয়া হবে– রফিককে আশ্বস্ত করলো মামুন, টাকা নিয়ে মামুনরা অপেক্ষায় থাকবে ।

বুকে ফু দিয়ে আল্লাহর নাম নিয়ে রওনা করলো রফিক, সাথে লাইট জাতীয় কিছু নেয়া যাবে না । ঘুটঘুটে অন্ধকারে কবরস্থানের দিকে পা চালালো সে । কবরস্থানের মাথায় এসে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নেয়ার কথা ভাবলো রফিক, প্রথম ভয়টা পেল ঠিক তখুনি ।

মেঘলা আকাশে হঠাত বিকট শব্দ করে বিদ্যুত চমকালো, মুহুর্তের আলোয় রফিক পাঁচ হাত সামনে কুচকুচে কালো একটি বিড়াল দেখতে পেল । বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠলো তার, বিড়ালের জ্বলজ্বল করা চোখ এখনো পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে ।
ধুম করেই বৃষ্টি নামলো । পিচ্ছিল মাটিতে আঙ্গুল টিপে হাঁটতে হাঁটতে আরেকবার দুনিয়া ভেঙ্গে বাজ পড়লো । রফিকের মনে হলো বাজ বোধহয় মুন্সীর কবরের কাছেই পড়লো! কানে তালা লেগে গেলো রফিকের, আঙ্গুল দিয়ে কান ঝাঁকানোর সময় আরো চারটি কালো বিড়াল আবিষ্কার করলো সে । কবরস্থানে ঢুকার পর এই প্রথম গা ছমছম করে উঠলো তার!

পাঁচ-পাঁচটি কালো বিড়াল হাতের বামে রেখে দোআ-কালাম পড়তে পড়তে এগিয়ে গেলো রফিক, বৃষ্টির গতি হুহু করে বাড়ছে । কোনাকুনি ১৫ হাতের মধ্যেই মুন্সীর কবর, আরো কয়েক হাত সামনে গিয়ে পেছন ফেরলো সে । তাজ্জব কাহিনী, বিড়ালের নাম-গন্ধ পর্যন্ত নেই! সামনে ফিরে এগুতে গিয়েই থমকে দাঁড়ালো রফিক, মুন্সীর কবরের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিড়ালগুলো, ফসফরাসের দাঁত বিড়ালগুলোর ঠিক সামনে!

মনে সাহস নিয়ে আরো কয়েক হাত সামনে গেলো রফিক, মাঝখানের বিড়ালটি শরীর হিম করা লম্বা ডাক দিলো । বিড়ালের ডাক না; অন্য কিছুর ডাক হবে, রফিকের জীবনে এতো হিংস্র কোনো কিছুর ডাক শুনে নি সে ।

রফিকের স্থির বিশ্বাস, এই পাঁচটি আর যাই হোক- বিড়াল অন্তত নয় । রফিকের বিশ্বাস প্রমান করতেই যেন 'প্রানীগুলো' কবরের ভেতর থেকে টানতে টানতে গোলাকার একটা কিছু নিয়ে ঠেলে দিলো সামনে । ঘোর অন্ধকারেও পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিলো– মুন্সীর মাথার খুলি সেটা! বৃষ্টির পানি দুই চোখের জায়গার ছিদ্র দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে । দুই সপ্তাহের মড়া, চুল-দাড়ি পঁচে নি এখনো ।

অনেক কষ্টে চুল কিংবা দাড়ি- কিছু একটা ধরে প্রানীগুলোর দিকে ছুড়ে মারলো খুলিটি সে, ক্ষুধার্ত পশুর মতো ওটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো প্রাণীগুলো, শুধু একটি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলো জ্বলজ্বল করা দাঁতের সামনে । মুরগির রানের মতো মটমট করে মুন্সীর খুলি খাচ্ছে চারটে বিড়াল– চোখের সামনে এই দৃশ্য দেখে জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা তার, শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা কিছু একটা বয়ে গেলো রফিকের ।

এখান থেকে আর যাই হোক- ফিরে যাওয়া চলবেন না, রফিক ঠিক করে ফেললো । নিচু হয়ে মাটির মধ্যে হামাগুড়ি দিয়ে এগোলো সে, লম্বা করে শ্বাস নিলো দাঁতের পাটি ছোঁ মেরে নেয়ার আগে । তক্ষুনি কড়কড় শব্দে বাজ পড়লো আরেকবার, বিদ্যুতের ঝলকানিতে মুন্সীর খুলিবিহীন শরীর থরথর করে কাঁপছে!

মুহুর্তেই ছোঁ মেরে দাঁতের পাটি টান মেরে ঝেড়ে দৌড় দিলো রফিক । উর্ধ্বশ্বাসে দৌড়াতে দৌড়াতে পেছন ফিরে তাকিয়ে মূর্ছা যাবার দশা তার, পাঁচটি প্রাণীই তীব্র বেগে পিছু নিয়েছে । সমানে পা চালালো রফিক, ওই যে স্কুল ঘরের আলো দেখা যাচ্ছে । শেষ দমটুকু নিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে রফিক, ডান হাতে শক্ত করে ধরে রেখেছে দাঁতের পাটি । তীব্র বৃষ্টির মধ্যে হঠাত করেই আশেপাশের সব কিছু অন্ধকার হয়ে এলো তার কাছে, স্কুল ঘরের কোনায় গিয়ে জ্ঞান হারালো রফিক!

পাদটিকা: পরেরদিন বাদ জোহর মুন্সীর ভেঙ্গে যাওয়া কবর আবার বাঁধানো হলো । রফিকের শরীর ভেঙ্গে জ্বর আসছে, তারপরেও সবার সাথে এসেছে সে । মুন্সীর খুলি পাওয়া গেলো কবরের থেকে ১০/১২ দক্ষিনে, মানুষজন নানা কথা বলছে । মামুনদের সাথে চোখাচোখি হতেই চোখ নামিয়ে নিলো রফিক, জ্ঞান ফেরার পরে সব বলেছে সে তাদের ।

সব শেষ করে আসরের নামাজের পরে বাড়ি ফিরল রফিক । বালিশের নিচ থেকে ১০০ টাকার ১০টা চকচকে নোট নিয়ে আয়নার সামনে গিয়ে মুখের কাছে ধরলো রফিক । কান পর্যন্ত হাসি টেনে টাকাগুলো পকেটে চালান করে দিয়ে আয়নার দিকে তাকাতেই ভয়ে কুঁকড়ে গেলো সে । আস্তে করে মুখের ভেতর হাত দিলো সে, সামনের মাড়ির মাঝখানের দুটো দাঁত খুলে অবলীলায় হাতের সাথে চলে এলো ।

রক্তের চিহ্ন পর্যন্ত নেই সেখানে! দুটো দাঁতই শুকনো, মাটি লাগা; ঠিক শহীদ মুন্সীর দাঁতের মতো!!
javed kaisar

মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৩


                   মাছ ধরার নেশা                                     


আমার মাছ ধরার অভ্যাসটা নিশায় পরিণত হয়ে গেলো।
প্রতিদিন রাতে কুঁচ নিয়ে মাছ ধরতে যেতে না পারলে রাতে আমার ভালো ঘুমই হতোনা।
আমি আর বাবুল ভাই রাত্র ১১ টা বাজলেই মাছ ধরতে চলে যেতাম ।আজকে বাবুল ভাই কোনভাবেই মাছ ধরতে যাবেনা। কেননা মিসির কাকারে আজকে চরের মাঝে পুড়েছে। সকালবেলা শুনেছি মিসির কাকা মারা গেছে। হিন্দুরা আবার লাশ বেশীক্ষণ রাখেনা।
তাই সন্ধার মাঝেই মিসির কাকারে পুড়ে ফেলা হয়েছে। বাবুল ভাই বললো, যেদিন কোন লাশ পোড়া হয় সেদিন নাকি ঐ লাশের প্রেতাত্না ঘুরে বেড়ায়।
আমিও তার কথায় ভয় পেয়ে গেলাম। তাই সেদিন আর মাছ ধরতে যায়নি।
কিন্তু পরের দিন আর মন বাঁধ মানলোনা।
আমার পাগলামী আর সাহস দেখে বাবুল ভাইও রাজী হয়ে গেলো।
১১টায় আমি বাবুল ভাইয়ের দোকানেকুঁচ, লাইট, খালই নিয়ে চলে আসলাম।
বের হবো ঠিক এমন সময় ঝুপকরে বৃষ্টি নেমে পড়লো।
বাবুল ভাই বললো বৃষ্টি হলে নাকি ভালো কারন তখন পানি পরিষ্কার থাকে আর মাছেরাও উপরে উঠে আসে।
আমরা বসে বসে প্লান করতে লাগলাম কিভাবে যাবো, কোথায় কোথায় মাছ ধরতে যাবো? ১২ টার দিকে আমরা মাছ ধরতে বের হয়ে গেলাম।
চারদিকে প্রচন্ড অন্ধকার।
দুইহাত সামনে কি আছে সেটাও দেখা যাচ্ছেনা।
আমি আর বাবুল ভাই নদীর পাড় ধরে ধরে মাছ ধরছি।
সা-ঝাঁক পানিতে বাবুল ভাইয়ের কুঁচ মারার শব্দে বুকের ভিতর কেমন জানি করে উঠে। বাবুল ভাই ফিসফিসিয়ে বলতে লাগলো আজকে মাছ বেশী। অল্প সময়ের মাঝেই খালই
ভরে গেলো। আমরা বাড়িতে আসার জন্য রওনা হলাম।
চরের মাঝখানেই মিসির কাকার শশান।
আমরা তাই হেকিমদের বাড়ির পাশ দিয়ে আসার মনস্থির করেছি।
অন্ধকার ভেদ করে কিছুই দেখা যাচ্ছেনা।
আমরা হাঁটছি। হঠাৎ........... হঠাৎ আমরা লক্ষ্য করলাম যে আমরা মিসির কাকার শশানের সামনে হাজির। অল্পের জন্য নাভি ঢেকে রেখেছে যে পাত্রটা দিয়ে সেটার উপর আমি লাত্থিই মেরে দিছিলাম।
সাদা কাপড় দিয়ে ঘেরা জায়গাটা থেকে উদ্ভুধ ধূপের গন্ধ বের হচ্ছে। বাবুল ভাই শুধু বললো রাস্তা হাট।
আমি অবাক হয়ে গেলাম এত সতর্কতার মাঝেও এইখানে কিভাবে আসলাম।
খেয়াল করলাম আমার বামে দিয়ে কেউ হাটছে। বাবুল ভাই আমার ডানপাশে।
আমি বাবুল ভাইকে টর্চটা দিতে বললাম।
কেন সে আমার কাছে জানতে চাইলে বললাম মাছ গুলো দেখতে।
সে বললো দেখলানা খালই ভরপুর। আমি আবার বললে লাইটটা আমার কাছে দিলো।
আমি কৌশলে বামে লাইট মারলাম যাতে বাবুল ভাই কিছু না বুঝে।
শুধু দেখলাম আমার লাইটের আলোর বাইরে একটা কালো হাতির মতো কিছু একটা গড়িয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে।
আমি আল্লার নাম ঝপা শুরু করলাম।
এই ক্ষেতে আমি কখনই মাছ দেখি নাই।
আজকে এতো মাছ দেখে আমি অবাক। শিং, মাগুর, বড় বড় টাকি....... বাবুল ভাই এই মাছ না ধরে কিছুতেই যাবেনা। আমি বুঝতে পারছিলাম কোন একটা সমস্যা আছে।
তাই বাবুল ভাইকে বললাম তুমি না আসলে আমি একাই চলে যাবো।
শেষে বাবুল ভাই রাগ করে আমার সাথে আসতে লাগলো।
এত রাতে চরের ভিতর খাঁচা দেখে আমরা অবাক হয়ে গেলাম।
আশ্চর্যের বিষয় হলো খাচাটি বার বার আমাদের সামনেই লক্ষ্য করি। শেষে বাবুল ভাই রাগ করে খাঁচাটি কুঁচ দিয়ে উল্টে দিলো।
যা দেখলাম তাতে দুইজনের মুখ দিয়ে আর কোন সাউন্ড বের হলো না।
সোজা হাটা শুরু করলাম এবং বাজারে এসে পৌছালাম।
পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনি গতরাতে চড়ের ভিতর অনেক কিছু ঘটেছে এর মাঝে দুইজনকে নাকি গাছে হাত-পা বাধা অবস্থায় পাওয়া গেছে। মজিদ ভাই আর
আজিতকে গাছ থেকে নামানোর পর ১০ দিন তারা কোন কথায় বলে নাই।

লেখক
ইউনুস খান

                                   যোগসূত্র                                        

আমার দাদার বাড়ি মুনশিগঞ্জ জেলায় । দাদারা চার ভাই। কোন বোন নেই। যদিও দাদার মা তিন মেয়ে সন্তান জন্ম দেন, কিন্তু কোন এক অজানা কারণে তার কোন মেয়েই জন্মের পর বেশিদিন বাঁচত না ।তারা মারা যেতো বিভিন্ন দুর্ঘটনায়। এবং সেই সব দুর্ঘটনার কথা শুনলে আসলেই মনে হয় এদের মৃত্যুর পিছনে অন্য কোন অশুভ শক্তির হাত আছে। আমি বড় হয়ে দাদা ভাইয়ের কাছে এই ঘটনাগুলো শুনেছিলাম। যেভাবে শুনেছি ঠিক সেভাবেই বলছি।
প্রথমে দাদা ভাইয়ের যে বোন হয় অর্থাৎ বড় মায়ের প্রথম সন্তান তার জন্মের ঠিক ৩ মাস পরের ঘটনা। ঘরে শুধু দাদা ভাইয়ের আম্মু আর উনাদের এক কাজের মেয়ে। কাজের মেয়ে বড় মা(দাদা ভাইয়ের আম্মু)কে সাহায্য করছিল রান্নার কাজে। বড় মা রান্না শেষে ঘরে গিয়ে দেখেন তার মেয়েটা নেই। তিনি চিৎকার করে উঠেন এবং দরজা খুলে বের হন। বের হয়ে বাড়ির বাকি সবাইকে ডেকে একত্রে করেন ।সবাই ঘরের আঁতিপাঁতি করে খুঁজেও কোথাও মেয়েটিকে পায় না। অবশেষে পুকুরপাড় থেকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। পানিতে ডুবে মৃত্যু এমনটাই ছিল কারণ। কিন্তু ৩ মাসের একটি বাচ্চা কিভাবে এতদুর গেলো? ঘরের দরজা লাগানো ছিল এবং ঘরে শুধু দুজন মানুষ ছিল। মাত্র ১০ মিনিট রান্নাঘরে ছিলেন তারা ।তাতেই এতকিছু ঘটে গেলো।
বড় মার দ্বিতীয় মেয়েটি হয় তিন নম্বরে ।অর্থাৎ এর মাঝে দাদা ভাই এবং উনার এক ভাই হয়েছেন। সেই মেয়েটি কিছুদিন বেঁচে ছিলো। বয়স যখন ১ বছর তখন বড় মা মেয়েকে নিয়ে উঠোনে বসে ছিলেন । উনি সুপারি কাটছেন আর পাশে বসে তার মেয়ে একটিপুতুল দিয়ে খেলছে। বড় মা সুপারি কাটতে কাটতে হটাত খেয়াল করলেন তার মেয়ে তার পাশে নেই। তিনি যেখানে বসে ছিলেন সেখান থেকে পুরো উঠোন দেখা যায়। এভাবে গায়েব হয়ে যাবার প্রশ্নই উঠে না। সেই মেয়ের কোন ঠিকানাই পাওয়া গেলো না। বড় মা প্রায় মৃত্যুর দশায় চলে গেলেন। কিছুদিন পর খড়ের গাদা (যেখানে গরুর খড় জমা করে টালি দিয়ে রাখা হয়) থেকে কেমন বিচ্ছ্রি গন্ধ বের হতে লাগলো। মানুষজন কৌতূহলী হয়ে খড়ের গাদা সরালে সেখান থেকে বড় মার দ্বিতীয় মেয়ের লাশ পাওয়া যায়।
বড় মার তৃতীয় মেয়েটি ছিল সবার ছোট। এই মেয়েটি বেঁচে ছিলো অনেকদিন। তাকে সারাদিন অনেক চোখেচোখে রাখা হত।একা কোথাও যেতে দেয়া হতো না। কেউ না কেউ আঠার মতো লেগে থাকতো। সেই মেয়ে একদিন ঘরের মধ্যে আত্মহত্যা করে মারা যায়। ফ্যানের সাথে ফাঁস লটকে। ঘরের দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল। রাতে খাবারের সময় ডাক দিলে পাওয়া না গেলে সবাই মিলে দরজা ভেঙে ফেলে এবং সেখান থেকে বেরকরে ঝুলন্ত লাশ।
আমি জানি না আমার বড়মা কিভাবে এসব সহ্য করেছিলেন। উনাকে এই ব্যপারে কখনো কথা বলতে দেখি নি কেউ। উনি নাকি খুব স্থির হয়ে গিয়েছিলেন। কারো সাথেই কথা বলতেন না একদম। আমি নিজেও একজন মেয়ে। মনে হয় না আমার সাথে এমনটা ঘটলে কখনো মেনে নিতে পারতাম। আল্লাহ আমার বড় মাকে অনেক কষ্ট দিয়েছেন। জানি না কি তার কারণ।
দাদা ভাইয়ের কাছ থেকে এসব শোনার পর অনেক ভেবেছি। কিন্তু কিছু বুঝে পাই নি। একই পরিবারে এতো মানুষ কিভাবে এমন ভাবে মারা যেতে পারে?

লেখক
আফরোজা সুলতানা নিধি


                       মসজিদে জিন                                             


আজকে আমার একটা Personal Experience Share করছি ।আমার বাসা গেন্ডারিয়ায় ।আমার বাসার সামনেই একটা বড় আর সুন্দর মসজিদ আছে ।এক শবে বরাতের রাতে আমি চিন্তা করলাম সারা রাত মসজিদে থাকবো,নামাজ পরব আর কুরআন হাদীস পরব ।সেই ভাবেই গেলাম মসজিদে ।রাত প্রায় ২.৩০ পর্যন্ত কিছুই হল না ।Everything was normal.রাত ২.৩০ তার কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ চলে গেল ।Emergency Power Supply এ মসজিদের প্রথম সাড়ির কয়েকটা Light জ্বলে উঠল ।কিন্তু আমি যে জায়গায় ছিলাম সেই জায়গাটা ছিল অনেক পেছনে জানালার পাশেই তাই সেখানে ওই Light এর আলো না গেলেও বাইরের চাদ এর আলো কিছুটা এসে পরছিল আর সেই আলোতে আমাদের ছায়া দেখা যাচ্ছিল ।আমি নামাজে দাড়ানোর পর যখন রুকুতে গেলাম তখন হঠাৎ খেয়াল করলাম যে আমার সামনে যে লোকটা দাঁড়ানো তার পা দুটো উলটা অর্থাৎ পা দুটো যেন আমার দিকে face করা ।প্রথমে আমি মনে করলাম যে হয়তো হ্যালুসিনেশন হবে ।তাই কিছু মনে না করে নামায চালিয়ে যেতে থাকলাম ।যখন প্রথম সিজদা দিয়ে উঠলাম তখন ও same জিনিসটাই দেখলাম আর যারা নামাজ পড়েন তারা জানেন যে নামায এর যে জায়গা থাকে সেটা যদি ছোট হয় তাহলে সিজদা দেবার সময় মাথা সামনের লোকের পা এর সাথে লেগে যায় ।আমি যখন দ্বিতীয় সিজদা দেই তখন আমার স্পষ্ট মনে হয় যে আমার মাথা কারো পায়ের আংগুল এর উপর পড়ল ।তারপর আবার খেয়াল করলাম যে লোকটার কোন ছায়া দেখা যাচ্ছেনা ।তখন আমি মোটামুটি ভয় পেয়ে গেছি ।তাই আমি যত তাড়াতাড়ি বের হওয়া যায় তত তাড়াতাড়ি বের হওয়ার চিন্তা করলাম ।সেদিন আমার সাথে মসজিদে আমার বাবা বা ভাই ছিলনা কিন্তু ১ জন friend ছিল ।তাই আমি নামাজ শেষ করে ওকে বললাম যে চল,বাসায় চলে যাই,ভাল লাগছে না ।কিন্তু ওকে কিছুই বললাম না ।ও আমাকে বলল যে,তুই বাইরে দাড়া,আমি আর দুই রাকাত নামায পরে আসছি ।আমি কথামত মসজিদের গেট এর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকলাম ।তখন দেখলাম যে একজন মোটামুটি লম্বা একজন মানুষ আসছে ।আমার height 5’10’’ এর মত আর তিনি ছিলেন আমার চেয়ে প্রায় এক ফুট লম্বা ।আর যখন আমি নামাজ পরেছি তখন আমি তার পেছনে ছিলাম বলে তার চেহারা দেখতে পাইনি ।এবার দেখলাম যে তার চেহারা খুবই সুন্দর এবং মুখভর্তি দাড়ি ।তিনি এসে আমার কাধে হাত দিলেন এবং বললেন যে “বাবা, যা দেখেছ ভুলে যাও ।”আমার তখন সাহস হয়নি যে তার পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখব আর কেউ কোনভাবে যদি কাধের ওপর হাত দেয় তাহলে তার ওজন অনুভব করা যায় ।কিন্তু আমি কাধে কোন রকম ওজন অনুভব করতে পারলাম না ।কিন্তু আগে তার পা এর আংগুল অনুভব করেছিলাম। এরপর তিনি আমাকে cross করে চলে গেলেন ।আমি তার দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম কিন্তু তার পা এর দিকে তাকাই নাই ভয়ের কারণে ।তারপর আমি এক মূহুর্তের জন্য মসজিদ এর গেটের দিকে তাকালাম দেখার জন্য যে আমার বন্ধু আসছে কিনা ।এক সেকেন্ডের ব্যবধানে আবার রাস্তার দিকে তাকাতেই দেখি তিনি আর নেই ।অথচ আমাদের মসজিদ এর সামনের রাস্তা ছিল অনেক বড় যার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত স্পষ্ট দেখা যায়।
লেখক
আবিদ হাসান

                        পুকুরের ভূত                                          


এ ঘটনার সময় ১৯ এ জুলাই ২০০৯.আমরা তিন বন্ধু মিলে মাছ চাষ করার জন্য একটি পুকুর কিনেছিলাম ।পুকুরের পানি ছিল হাটুর উপর থেকে কোমর পর্যন্ত ।পুকুরের এক পাশে ছিল একটি পুরাতন হিন্দু বাড়ি এবং অপর
পাশে ছিল পরিত্যাক্ত বাড়ি যেখানে কেউ বাস করতনা এবং আরেক পাশে ছিল কচুর খেত ।পুকুরের মধ্যে অনেক কচুরিপানা এবং রাক্ষুসে মাছ ছিল ।তাই আমরা ঠিক করলাম পুকুরটা পরিষ্কার করার কিন্তু আমরা পুকুরটি পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হই । পরিষ্কার করার সময় পানি খাওয়ার উদ্দেশে হিন্দু বাড়িতে যাওয়ার পথে মাথায় কি জানি একটা জিনিস উপর থেকে পরে সাথে সাথে আমি অজ্ঞান
হয়ে যাই ।জ্ঞান ফিরার পর
আমি বুজতে পারলাম যে আমি রাস্তার উপরে পড়ে রয়েছি। জ্ঞান ফিরার পর আমি আমার বন্ধুদের কাছে ফিরে যাই ।এ ব্যাপারে আমি কারো সাথে কোনো আলাপ করিনি ।পুকুর পরিষ্কারে ব্যর্থ হবার কারণে পরের দিন আমরা পানি সেচার মেশিন ও দু জন লোক ঠিক করি ।কিন্তু মেশিন দিয়ে সারাদিন পানি সেচার পরও মাত্র আধা ইঞ্চি পানি কমে,সবার কাছে বেপার টা অস্বাভাবিক মনে হয় ।এর জন্য আমরা মাছ চাষ করার
পরিকল্পনা বাদ দেই ।তার কয়দিন পর জানতে পারি এখানে আমাদের
আগে আমদের কিছু এলাকার বড় ভাই মাছ চাষ করত,কিন্তু তারা হটাত করে মাছ চাষ করা বন্ধ করে দেয় ।বন্ধ করার কারণ আমাদের জানা ছিল না ।তাই কারণ জানার জন্য বড় ভাইদের
একজনকে জিজ্ঞাস করি কিন্তু
প্রথমে সে কিছু বলতে রাজি হলোনা ।তারপর আমার সাথে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা খুলে বলি ।তার পর সে মাছ চাষ বন্ধ করার কারণ বলতে রাজি হলো ।তারা তিন বছর আগে ওই পুকুরের মাছ
চাষ করত ।পাহারা দেওয়ার জন্য
প্রতি রাতে দুইজন করে থাকত ।রাতে থাকার জন্য তারা পুকুরের
মাঝে একটি বাসের ডেরা তৈরী করে ।একরাতের ঘটনা,সে রাতে রনি ভাই এবং অন্য আরেক জনের থাকার পালা ছিল ।কিন্তু একজনের
সমস্যা থাকার কারণে রনি ভাইকে একা থাকতে হয় ।রনি ভাই ছিল অনেক সাহসী এবং তার
হাতে ছিল একটি মাছ মারার টেটা ।মধ্যরাতে তিনি ডেরায় বসে সিগারেট টানছিলেন,এমন সময় তিনি পুকুরের মাঝখানে পানির ঝোপ ঝোপ আওয়াজ শুনতে পেলেন ।সে মনে করে চোর মাছ
চুরি করতে এসেছে ,তাই সে ডেরার নিচে নৌকা নিয়ে দেখতে যায় ।যাওয়ার পরে শব্দ বন্ধ হয়ে যায় এবং কিছুই দেখতে পায় না ।তার একটু ভয় লাগা শুরু
করে তখন সে ডেরার মাঝে ফিরে আসে ।আসার পর আবার সেই শব্দ আবার শুরুহয় ।তার ভয় আরো বেড়ে যায় ।সে এবার আর পানিতে নামে না উপর থেকেই দেখার চেষ্টা করে ওখানে কিসের শব্দ হচ্ছে ।কিছুক্ষণ পর সে দেখতে পেল কচু খেত থেকে একটি তিন অথবা চার বছরের
একটি বাচ্চা পানিতে লাফিয়ে লাফিয়ে গোসল করছে ।সে ভাবে আশেপাশে কোনো জনবসতি নেই
আর এত রাতে এই বাচ্চা কথা থেকে এলো ?একটু পর সে দেখতে পেল বাচ্চার সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে ।একজনের পর তিনজন দেখতে পেল ।তিন জন বাচ্চা পুকুরের পানিতে ঝাপা ঝাপি করছে ।তাদের পরনে কোনো কাপড় ছিল না ।তখন রনি ভাই বুজতে পারলেন যে,এগুলো মানুষের সন্তান না ।এক পর্যায়ে বড় ভাই তার হাতে থাকা টেটা দিয়ে বাচ্চা গুলোকে আঘাত
করার সিধান্ত নিলেন ।কিন্তু অজানা ভয় ও শংকার কারণে বাচ্চাদের আঘাত করা থেকে বিরত থাকলেন ।কিছুক্ষণ পর দেখতে পেলেন বাচ্চা তিনটি কোথায় যেন উধাও হয়ে গেছে ।রনি ভাই বুকে অনেক সাহস
নিয়ে ডেরার উপরে ফিরে গেলেন ।একসময়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন । খুব ভোরে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়
তিনি দেখতে পেলেন অনেক বৃষ্টি হচ্ছে ।তিনি বৃষ্টির মধ্যে বাসার
উদ্দশ্যে রওনা হলেন ।বাসায় যাওয়ার পথে তার মনে হলো কে যেন তার পিছু নিয়েছে,কিন্তু পিছনে তাকিয়ে কাউকে দেখতে পায় না ।পিছনে কে হাটছে এটা দেখার জন্য একটা দেয়ালের পিছনে লুকায় ।লুকানো অবস্থায় সে অনুভব করে তার পিছনে কে যেন দাড়িয়ে আছে ।মাথা ঘুরিয়ে তাকাতেই কে যেন তাকে প্রচন্ড জোরে চর মারে ।চর মারার পর রনি ভাই অজ্ঞান হয়ে যায় ।জ্ঞান ফিরার পর সে নিজেকে মসজিদে আবিষ্কার করে ।মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে শুনতে পায় একটা লোক তাকে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়ার পর মসজিদে নিয়ে আসে ।পরে আমার সে বড় ভাই ইমাম সাহেবের কাছে গত রাতের সব
ঘটনা খুলে বলে ।ঘটনা শুনার পর ইমামসাহেব বলে তোমার উপরে খারাপ জিন আসর করেছে এবং সে ইমাম সাহেবের কাছ থেকে আরো জানতে পারেযে পুকুরের
পাশের সেই হিন্দু বাড়িতে একটা বুড়ি মহিলা তার মেয়ে ও তিন নাতি বসবাস করত ।একপর্যায়ে বুড়ি মহিলার মেয়ে এবং নাতি তিনটি কলেরা রোগ হয়ে মারা যায় ।মারা যাওয়ার পর বুড়ি মহিলা কাউকে না জানিয়ে মৃত দেহ গুলো বাড়ির পাশের সেই কচু
খেতে পুতে রাখে ।ঘটনা শুনার পর রনি ভাই বুঝতে পারে যে,গত কাল রাতের বাচ্চা গুলো ছিল বুড়ির সেই মারা যাওয়া নাতি তিন জনের আত্মা ।


লেখক
মাতুয়াইল

                         কবরস্থান                                                


ছোটবেলা থেকেই ব্যাখ্যার অতীত বিষয়সমূহ নিয়ে আমার সীমার অতীতআগ্রহ ! এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে আমার কোন ক্লান্তি নেই। তাই রহস্যের খোঁজ পেলে আর দেরি করি না, ছুটে যাই ঘটনাস্থলে। আর এধরণের ঘটনা সংগ্রহের জন্য নানা ধরণের লোকের সাথেই কথা বলতে হয়। এবারও তেমনি এক লোকের সাথে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলার সুযোগ এসে গেল। লোকটির নাম করিম মিয়া। তিনি মৃত মানুষের জন্য কবর খোঁড়া এবং দাফন কাজ সমাধা করেন। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি একাজ করে আসছেন। আর আমি যে ধরণের গল্পের জন্য হয়রান সে ধরণের ঘটনা তার জীবনের নিত্য-নৈমিত্তিক ­ ব্যাপার। গত বছর আমার এক আত্মীয়ের লাশ দাফনের সময় তার সাথে পরিচয়। তখন তার মুখে বেশ কিছু কাহিনী শোনা হয়। যদিও তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ানক কাহিনী সেবলতে চায়নি সেদিন; অনেক জোর করারপরও। আমি আমার মোবাইল নাম্বার তাকে দিয়ে আসি এবং প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে বলি। এর মাঝে কেটে গেছে অনেকদিন। তার কথা প্রায় ভুলেই গেছিলাম। হঠাৎ গতকাল অচেনাএকটা নাম্বার থেকে ফোন পেলাম । হুম, সেই লোকের ফোন ! তার চেয়ে বড় কথা তিনি তার ঘটনাটি আমাকে বলতে চান। এই ঘটনা কাউকে না বলে নাকি তিনি শান্তি পাচ্ছেন না। তাছাড়া অন্য কেউ এই ঘটনা বিশ্বাসও করবে না।
তো পরদিনই দেখা করার সিদ্ধান্ত নিলাম। করিম মিয়া বলল যে কবরস্থানে তিনি এ ঘটনার শিকার সেখানেই তিনি এ কাহিনী বলতে চান। আর সময়টাও রাতে হলে তার জন্য ভালো হয়। আমার কোন আপত্তি ছিল না। সময় ঠিক করলাম রাত ১২ টা।
আমি পৌঁছে গেছিলাম সময় মত। কবরস্থানের একটু সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। বেশ রাত, আর জায়গাটাও কেমন নির্জন। তাই একটুঅস্বস্তি হচ্ছিল। যদিও সেসবে পাত্তা দিলাম না। একটু পর ধীর পায়ে কারও এগিয়ে আসার শব্দ পেলাম। হ্যাঁ, করিম মিয়াই হবে। ছোটখাটো গড়নের করিম মিয়া ধীর পায়ে এগিয়ে আসছিল। কাছে এসে বলল, “ভাইসাব, একটু দেরি কইরা ফেললাম।” এই বলে আমাকে নিয়ে কবরস্থানের একটু সামনে বসার মত একটা জায়গায় বসে পড়ল। কোন রকম ভূমিকা ছাড়াই সে তার কাহিনী শুরু করল......
(এখানে করিম মিয়ার ভাষায় আঞ্চলিকতা উহ্য রাখা হল)
___সেদিন ছিল পূর্ণিমা। চাঁদের পূর্ণ আলোয় সবকিছু পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল। আমি আর আমার নিত্যদিনের সঙ্গী জহির মিলে একটাকবরে বেড়া লাগানোর কাজ শেষ করে বাসার দিকে রওনা হলাম। কবরস্থানের গেটের কাছে এসে দেখলাম দুইজন লোক দাঁড়িয়ে আছে।তাদের পরনে সাদা পাঞ্জাবী, মুখে শুভ্র দাড়ি। তাদের হাতে একটা লাশ কাফনে মুড়িয়ে রাখা। দেখে বুঝলাম কোন বাচ্চার লাশ হবে। তারা বলল বাচ্চার লাশ দাফন করতে হবে। আমি বললাম লাশ দাফনের আগে স্থানীয় হুজুরের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। আমি লোক দুজনকে দাঁড়াতে বললাম।হুজুরের বাসা একটু সামনেই। আমি আর জহির হুজুরের বাসার দিকে হাঁটা দিলাম।যাওয়ার সময় দেখেছিলাম লোক দুটিগেটের সামনেই দাঁড়িয়ে।
হুজুরের সাথে কথা হল। তিনি আমাদেরকে তিনি আমাদেরকে কবরস্থানে গিয়ে দাঁড়াতে বললেন। তিনি কিছুক্ষণ পর এসে লোকগুলোর সাথে কথা বলবেন।
তো আমরা আবার ফিরে চললাম। রাত তখনআরেকটু গভীর। চারপাশ চাঁদের আলোয় ভিন্ন অবয়ব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা কবরস্থানের গেটের সামনে এসে দাঁড়ালাম। কিন্তু সেই দুই লোককে কোথাও দেখতে পেলাম না। একটু অবাক হলাম। জহির গেট খুলে কবরস্থানের ভিতর ঢুকল। আমি বাইরেই খুঁজতে লাগলাম তাদের। তাদের তো ভিতরে ঢুকার কথা নয় ! অনেক খুঁজেও না পেয়ে ধীর পায়ে কবরস্থানের ভিতরে ঢুকলাম। সেই সময় জহিরের বিকট চিৎকার শুনলাম। একটা চিৎকারই কানে আসল। দৌড়ে গেলাম চিৎকার লক্ষ্য করে। কিছুদূর যাওয়ার পর চোখের সামনে যে দৃশ্য দেখতে পেলাম, তাতে সর্বাঙ্গে কাঁপন ধরে গেল। সেই লোকদুটির হালকা অবয়ব চোখে পড়ছিল, তারা পেছন দিকে মুখ করে আছে। তাদের হাতে সেই বাচ্চার কাফনে মোড়ান লাশ। লাশের উপরের দিকে কাপড় ছিঁড়ে নেয়া হয়েছে।মাথাটা আলগে ধরে দুজনে মিলে গভীর আগ্রহে লাশটিকে নখ দিয়ে আঁচড়ে ক্ষত-বিক্ষত করছে। তাদের মুখ থেকে একধরণের জান্তব এবং উল্লাসিত গোঁ গোঁ জাতীয় আওয়াজ ভেসে আসছিল। একটু পাশেই পড়ে আছে জহিরের নিথর দেহ। প্রাণ আছে কিনা ঠিক বোঝা গেল না। এসব দৃশ্য আমার পক্ষে সহ্য করা সম্ভব হচ্ছিল না। অবস্থা এমন, যে অজ্ঞান হতেও ভুলে গেছি !!
মনে হচ্ছিল দাঁড়িয়ে থেকেই মৃত্যু ঘটবে আমার ! আমার শ্বাস-প্রশ্বাসে ­র গভীর আওয়াজে হঠাৎ সেই জন্তুগুলো ঘুরে তাকাল আমার দিকে। সে এক অদ্ভুত, ভয়ংকর চেহারা। ঘাড়ের উপর গোলাকার এক মাংসের স্তূপ। সেখানে চোখ, নাক, ঠোঁটের কোন অস্তিত্ব নেই। ঘাড়েরউপরে মাংসের পিণ্ডটি অনেকটা তরল জাতীয়, কেঁপে কেঁপে উঠছে ! তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাল; চোখহীন অথচ ভয়ানক প্রখর সে দৃষ্টি, মুখে সূক্ষ্ম হাসির রেখা।
আর সহ্য করা সম্ভব হল না। নিঃশব্দে লুটিয়ে পড়লাম মাটিতে। এরপর আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান ফিরলে নিজেকে হাসপাতালে দেখতে পাই। আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন সেই হুজুর। জহিরকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাদেরকে আমি কিছু জানাই নি। শুধু বলেছি ভয়ংকর কিছু ঘটেছিল। হুজুর আর আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করেননি। এই ঘটনা আর কাউকে বলতে পারিনি। আজ আপনাকে বলে স্বস্তি পেলাম......
ঘটনা শুনতে শুনতে নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেছিলাম। বড় একটা নিঃশ্বাসনিয়ে বললাম, বড় অদ্ভুত কাহিনী। ঠিক বিশ্বাস হয় না !
করিম মিয়া হেসে উঠে বলল, না হইলেই ভালো। অনেক রাত হইছে, আপনারফিরা উচিত।
তার এ কথায় সম্বিত ফিরে পেলাম। আসলেই অনেক রাত। উঠে দাঁড়ালাম আমি; ফিরতে হবে।
করিম মিয়া, যাই তাহলে। আপনার সাথে পরে একদিন এই বিষয়ে আরও কথাবলব।
উঠে দাঁড়াতেই মোবাইল বেজে উঠল। অচেনা একটা নাম্বার থেকে কল। কল ধরতেই পরিচিত এক কণ্ঠ বলে উঠল, ভাইজান ! বড় বিপদে পইরা গেছি। আজকে আর আসতে পারলাম না ! ঘটনা হইছে কি......
ঘটনা কি, তা আর শোনা হল না। মোবাইলমাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। আমার বিস্ফোরিত চোখ করিম মিয়ার দিকে।করিম মিয়া ধীরে ধীরে মুখ তুলে আমার দিকে তাকাল। তার ঘাড়ের উপর মাংসের দলা কিলবিল করছে। মুখে অপার্থিব এক ব্যাঙ্গের হাসি, চোখহীন অথচ তীব্র এক দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে...!

                          হোস্টেলের ভূত                                     

আমার এক বন্ধুর ফুফাত ভাই সিহাব খুলনায় থেকে লেখাপড়া করে। ভার্সিটি পরার সুবিধার জন্য ওনাকে হলে থাকতে হয়। বর্তমানে মজিদ হলে থাকলেও আগের হলে তার সাথে যা ঘটেছে তা আজ শেয়ার করছি~
* হল বললে ভুল হবে ওটা ছিল একটা ম্যাচ হোস্টেলের মত। তারা বেশ কিছুজন ঐ ম্যাচে থাকত। বাড়িটা দেখলে নতুন মনে হবে কারন পেইন্ট করে পুরনো বাড়িটাকে নতুন করা হয়েছে। বলে রাখা ভালো ভাইয়ার রুমে ঢোকার দরজা এমন যে আগে রুমের একটা জানলা পড়ে যেটা দিয়ে রুমের ভেতর সম্পূর্ণ খুব ভালভাবে দেখা যায়। তো একদিন দুপুর বেলা ভাইয়া গোসল করে রুমে ঢোকার সময় একবার ভিতরে তাকান। দেখতে পান তার বেডে কেউ একজন শুয়ে বই পড়ছে। কিন্তু রুমে ঢুকে দেখেন তার বেডে কেউ নেই। পাশের বেডের ছেলেকে জিজ্ঞেস করায় সে বলল তার বেডে কেউ ছিলনা।
ঘটনা এখানেই শেষ হলে বলা যেত ভাইয়া চোখে ভুল দেখেছে কিন্তু অবাস্তব ঘটনা আরো ঘটতে থাকে।
* ওই ঘটনার কিছুদিন পরে অন্য রুমের দুই অনার্স পড়ুয়া বড় ভাই এই ধরনের ঘটনার মুখমুখি হন। ওইদিন রাতে আনুমানিক রাত ২.০০ বা ২.৩০ এর দিকে ঐ রুমের এক ভাইএর ঘুম ভেঙে যায় একটা বিশ্রী শব্দে। ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথে ডিম লাইটের আলোয় দেখতে পান তাদের খাটের ঠিক সামনে একটা ছোট মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঊনি অনেক কষ্টে তার ভয় দূর করে তার পাশে শোয়া অন্য ভাইকে জাগানোর জন্য পাশ ফেরেন। পাশের ভাইকে জাগিয়ে ঊনি পাশ ফিরে দেখাতে যাবেন মেয়েটাকে। কিন্তু বিস্ময়ের সীমা ছাড়িয়ে যায় যখন দেখেন ওখানে কেউ নেই!!
আগের ঘটনার পরে ভাইয়া ঐ হোস্টেলের দারোয়ানের কাছে জিজ্ঞেস করলে তিনিও স্বীকার করেন ঐ হোস্টেলে কিছু আছে।দারোয়ানের ভাষ্য মতে
* তিনি এক রাতে হটাত উপর তলায় গুম গুম শব্দ শুনতে পান। তার এক ছোট ভাই তার সাথে ঘুমায়। সেও একই শব্দ শুনতে পায়। তার রুম টা উপরতলার বাথরুমের ঠিক নিচে। উনি ভাবল কেউ হয়ত বাথরুমে গেছে। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ শব্দ চলতে থাকায় উনি উপরে যান দেখতে।তার ছোট ভাইকে রুমেই রেখে যান। কারেন্ট না থাকাই একটা টর্চ হাতে নিয়ে যান। বাথরুমে ঢুকে তেমন কিছু দেখতে না পেয়ে উনি নিচে ফেরার জন্য যেই সিড়ি পর্যন্ত গেছেন অমনি শব্দ আবার হতে থাকে। টর্চ হাতে তিনি আবার বাথরুমে যান। হলের বাথরুম সাধারনত বড় হয় অর্থাৎ অনেক গুলো টয়লেট একসাথে।লাইট মেরে উনি দেখেন সব দরজা গুলো খুলছে আর বন্ধ হচ্ছে। ভয় পেয়ে উনি নিচে দৌড়ে চলে আসেন। নিজের রুমে ঢুকে দেখেন একটি ছোট মেয়ে তার ভাই এর সামনে দাড়িয়ে আছে। আর তার ভাই নির্বিকার ভাবে ঐ মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। উনি সাথে সাথে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। সকালে তার ও তার ভাইকে সবাই তাদের রুমে অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে পায়। সবাইকে সবকিছু বললেও অনেকেই তার কথা বিশ্বাস করেনি। এটা ওই হলের অনেক আগের ঘটনা।
* আবার ভাইয়ার সাথে অন্য এক রাতে আরেকটি ঘটনা ঘটে ঐ বাথরুমে। ঐ রাতে আনুমানিক ৮.০০ বা ৯.০০ এর দিকে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলা থাকায় সবাই নিচে যায় খেলা দেখতে। ভাইয়া টয়লেটে ঢুকে দরজাবন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ পরে উনি টের পান দরজার সিটকিনি খোলার খুটখুট শব্দ। বাথরুমের লাইটগুলো বেশিরভাগ ই ফিউজ। একটা লাইট দিয়ে কাজ চালাতে হয়। ঐ লাইটের আবছা আলোতে তিনি দেখতে পান দরজার সিটকিনি অটোমেটিক খুলে যাচ্ছে। ভাইয়া উঠে দরজার শিটকিনী তাড়াতাড়ি বন্ধ করে দেন। ভাইয়া ভাবেন হয়ত মনের ভুলে দেখেছেন ওটা। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে একই কান্ড আবার শুরু হয়। ভাইয়া আবার বন্ধ করে দেন। তৃতীয় বার তিনি তাড়তাড়ি কাজ সেরে টয়লেট হতে বের হয়ে যান। এই সব ভয়ানক ঘটনার পরে আর বেশিদিন ঐ হলে থাকেনি ভাইয়া।

                       আমার খালা                                             

আমার বাড়ি জামালপুর জিলার ইসলামপুর উপজেলায়। ছোট বেলা থেকেই ভূত পেত্নি, জিন -পরিদের কাহিনী শুনতাম। কিন্তু ভয় পেতাম খুব কম। কারণ ছোটবেলা থেকেই অনেক মৃত্যু দেখেছিলাম। যাই হোক, কেউ যদি এইসব কাহিনী বলত,আমি বিশ্বাস করতাম না।
তখন ক্লাস ৮ এ পড়ি। সবাই মিলে এক খালার বিয়ে খেতে গেলাম নানুবাড়ি।অনেক পুরোনো হওয়ায় ভৌতিক ছিলো সব বাড়িগুলো। পিছনের দিকে প্রায় সবটুকু এলাকা জুড়ে বাশবাগান। গায়ে হলুদ এর দিন, নানী বললো রতন নামের এক কাজের লোককে পাশের বাড়ি থেকে ডেকে আনতে। কি কাজে যেন সেখানে গিয়ে রতন আটকে গেছে। আসতে দেরি করছে। তখন রাত ৯টা বাজে। এক জন সাথে নিতে বললেও আমি একটা টর্চনিয়ে একাই যাওয়া শুরু করলাম সেই বাশবাগান দিয়ে। ২ মিনিট হাঁটার পর কোত্থেকে একজন বৃদ্ধা আচমকা ডেকে উঠলেন। বললো 'অনিক নাহি রে?'
বললাম, 'জি,আপনি কে?’
'আমি গো রে কি আর চিনবি তোরা, বুইরা মানুষ,বিয়া খাইতে আইসস নাহি?'
না চেনায় একটু লজ্জা পেয়ে বললাম, জি..
রতন মোল্লারে ডাকতে যাস, তাইনে?
আমি বললাম, জি..
আমারেও নিয়ে যা, অইদিহেই যামু।
আমি বললাম,আসেন..
তোর মায়ে চিনে আমারে, ছোট বেলা থেইকাই বড় কুরসি এরে, আমি বানুর মা.. তোর মায়ে আমারে কতো আদর কইর তো,বিসনাতে পড়েছিলাম তখন কতো কিছু খিলাইছে আমারে..
আমি বললাম, কেন এখন করে না?
বৃদ্ধা বললেন, এখন কই থিকা করবো, আমিই তো নাই।
আমার মনে একটা ধাক্কা দিল, নাই মানে!!
'শুন, রুমি(আমার খালা)রে কইছ বিয়া না করতে, এর জামাই খুব খারাফ।
আমি একটু হেসে বললাম, আপনি জানলেন কিভাবে? আপনি তো জামাই দেখেনই নাই।
‘আমি জানি রে,আমি জানি।’ উনি বললেন।
তুই যা,আমি ঐদিক যামু।
‘আমি আপনাকে দিয়ে আসি, অন্ধকার তো সামনে। একা যেতে পারবেন?’
আমার দেখতে আলো লাগে না রে ভাইডা।বলেই বৃদ্ধা চলে গেলেন। আমিও চলে আসলাম। ব্যাপারটা পরে ভুলে যাই।
ডিসেম্বর ২০১১ এ আমার খালা আত্মহত্যা করে। এলাকার লোকের কাছে জানা যায় তার জামাই ভাল ছিল না। তাকে প্রতিদিন মারধোর করতো। এর কিছুদিন পর আম্মু কে জিজ্ঞেস করলাম, বানুর মা এর কথা।
মা অবাক হয়ে বললেন , ‘তুই উনার কথা জানলি কিভাবে? খালা (বানুর মা) তো ১৫ বছর আগেই মারা গেছে।
কথাটা শুনেই বুকে ধরাস করে উঠল ভয়ে..
আবার তিব্র একটা কষ্ট মোচড় দিল মনের গভীরে। কারণ আমি জানতাম এমন হবে.. বানুর মা নানু আমাকে বলে গিয়েছিল সবই। নিজেকে কল্পনাতীত অপরাধী মনে হল।
মানুষের জীবনে অনেক রকম ঘটনাই ঘটে যার কোন ব্যাখ্যা দেয়া যায় না। হয়তো আমাদের প্রিয়জনরা বারবার ফিরে এসে আমাদের সতর্ক করে দেয়। হয়তো আমরা বুঝতে পারি না অথবা বিশ্বাস করি না। আল্লাহ আমার খালাকে মাফ করে দিন এই দোয়াই করি এখন।

লেখক
শাহরিয়ার ইমরান

                     ইমাম সাহেবের ভূত দেখা                                                       


 ঘটনাটা আমাদের পাশের বাসার এক ইমাম সাহেবের ।তিনি ১ টা সরকারী মাদ্রাসাই ইংলিশ এর শিক্ষক ।এলাকাই যথেষ্ট সম্মানিত ১ জন ব্যাক্তি ।মুলত আমাদের এলাকাটা মাইজদি মূল শহরের সিনেমা হল এর পিছনে হওয়ায় ফলে সারা দিন রাতই মানুষের চলাচল থাকে ।তাই ভয়ের বা ক্ষতিকর কোন কিছু কখনও দেখিনি বা শুনি নি ।
তো পুরো ঘটনাটা হুজুর এর কাছ থেকে শোনা ।যেদিন রাতের ঘটনা ঐ রাতটাও সাধারন আর বাকি রাতের মতই ছিল ।হুজুর আনুমানিক রাত ১০টার দিকে কয়েল কিনতে দোকানে যান ।তো কয়েল কিনে ফিরের পথে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সব অন্ধকার হয়ে যায় ।রাস্তাই চাঁদের আলো থাকায় উনার তেমন সমস্যা হয় নি ।উনি একেবারে বাসার সামনের মোড়ে এসে হঠাৎ দেখতে পেলেন এক ১৫-১৬ বছরের ছেলে কাঁদছে ।আমাদের এলাকায় বর্ষাকালে ক্ষেতে পানি থাকে তাই সারা রাত লোকে মাছ মারে ।তাই উনি ভাবলেন যে সেও হয়তো মাছ মারতে আসছে এবং হয়তো কিছু কামড়টামর দিছে ।উনি আরেকটু এগিয়ে গিয়ে থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন । তিনি দেখলেন যে ছেলেটির সারা গায়ে রক্ত ।মাথা ও গলা থেকে রক্ত ঝরছে ।এই দৃশ্য দেখে তিনি ভাবলেন যে একে হসপিটাল নেওয়া উচিৎ ।সেই রাস্তার উল্টা পাশে ছাত্রদের মেস ছিল ।তিনি একটু এগিয়ে কয়েকজনের নাম ধরে ডাকাডাকি করলেন কিছুক্ষণ ।১৫-২০ সেকেন্ড পর তিনি ঘুড়ে দেখেন ছেলেটি নাই ।তিনি প্রচণ্ড ভয়ে ১ দৌড়ে বাসার দরজার সামনে এসে জ্ঞান হারালেন ।আমাদের এলাকায় কিছুদিন আগেও হিন্দুরা ছিল ।তাদের মৃতদেহ পুড়নোর শ্মশান এখনও আছে ।আমরা অনেক রাতে সেখানে গিয়ে মাছ মারতাম ।কখনও ভয়ের কিছু দেখি নি ।অন্য কেউ বললে তাই ঘটনাটা বিশ্বাস করতাম না ।কিন্তু হুজুর খুবই ভদ্র এবং কম কথা বলেন ।তিনি অকারণে নিশ্চয় মিথ্যা বানিয়ে বলবেন না ।এই ঘটনার কারন উনি নিজেও বুঝতে পারেন নি ।

 লেখক
 কৌশিক রহমান
    

                           রেল লাইনের ভূত                      

আমি এখন যে ঘটনাটি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি সেটা আমার মেঝ ফুফুর কাছ থেকে শোনা।ফেনী থেকে পরশুরামগামী যে রেল লাইনটি আছে এক সময় ভোর ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নিয়মিত এই লাইনে একটি ট্রেন যাতায়াত করত।বৃটিশ আমলে চট্রগ্রাম থেকে ত্রিপুরা রাজ্যে মালামাল নেয়ার জন্য এই লাইনটি তৈরি করা হয়।বর্তমানে অবশ্য এই লাইনে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে।
ঘটনা:- আজ থেকে ৩০ বছর আগের কথা।আনন্দপুর ইউনিয়নের কালিহাট নামক স্থানে কালা পোল নামের একটি জায়গা আছে।আর এর ঠিক পাশে ছিলো ছোট্ট একটি গ্রাম।এই এলাকায় তখন বিদ্যুত্‍ আসেনি তাই রাত একটু গভীর হলেই গ্রাম জুড়ে নিঃশব্দতা বিরাজ করতো।একবার এই গ্রামে এক মেয়ের বিয়ের আসর থেকে যৌতুকের দাবিতে বর চলে যায়।কিন্তু গ্রামের মানুষ এর কোন প্রতিবাদ করেনি।এভাবে বিয়ের আসর থেকে বর চলে যাওয়ার কারনে সেদিন সারা রাত মেয়টি এবং তার মা বিলাপ করতে করতে কান্নাকাটি করে।পরদিন ফজরের আযান দেয়ার একটু আগে মেয়েটি অপমানে ও লজ্জা শরমের ভয়ে ঐ কালা পোলের পাশে গিয়ে রেল গাড়ির নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে।আত্মহত্যার পরে মেয়েটির দেহটি পাওয়া গেলেও মাথাটি কোথাও পাওয়া যায়নি।গ্রামবাসি অনেক খুঁজাখুজি করেও মাথাটি না পেয়ে পরে শুধু দেহটি দাফন করে।এর কিছুদিন পরে হঠাত্‍
একদিন গভীর রাতে এক বিকট কান্নার আওয়াজ শুনে গ্রামের সব মানুষের ঘুম ভেঙ্গে গেল।কান্নার আওয়াজটা ছিলো অনেকটা বিলাপের সুরের মত।বুঝা যাচ্ছিলো আওয়াজটি কালা পোলের ঐ দিক থেকে আসছে।সবার কাছে কান্নার আওয়াজটি পরিচিত মনে হলেও কেউ সাহস করে ঘর থেকে বের হয়নি।পরদিন সকালে গ্রামবাসি ঐ স্থানে গিয়ে দেখলো রেল লাইনের পাশে কে যেন একটি গর্ত খুড়ে গেছে।এর পর থেকে প্রায় সময় গভীর রাতে বিকট এক আওয়াজ শুনে গ্রামে বাসির ঘুম ভেঙ্গে যেত।তার পর সে চির পরিচিত বিলাপের সুরে কান্নার আওয়াজ শোনা যেত।একদিন চাঁদনী প্রসারী গভীর রাতে গ্রামের কিছু যুবক যাত্রাপালা দেখে বাড়ি ফিরছিলো।গ্রামে ঢুকার পথে হঠাত্‍ করে তাদের চোখ গেলো কালা পোলের ঐ দিকে।তারা লক্ষ্য করলো একটি মেয়ে সাদা পোষাক পড়ে রেল লাইনের উপর দাড়িয়ে আছে।কিন্তু তার দেহের সাথে মাথাটি ছিলোনা।এইভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে যুবকরা ভয়ে গ্রামের দিকে দৌড় দিল।পরদিন সকালবেলা এই ঘটনা তারা মসজিদের ইমামকে বলে।ইমাম সাহেব রাত্রি বেলায় ঐ দিকে সবাইকে যেতে নিষেধ করেন।এর কিছুদিন পরে একদিন গভীর রাতে ইমাম সাহেব স্বপ্ন দেখেন কেন যেন তাকে বলছে মেয়েটির মাথা খুঁজে এনে কবরে দাফন করতে এবং মাথাটি কোথায় আছে সেটা ও বলেছে।পরদিন সকালে ইমাম সাহেবের নেতৃতে কালা পোল থেকে আধা কি:মি দূরে এক ধান ক্ষেত থেকে মাথাটি উদ্ধার করে কবরে দাফন করা হয়।তার পর থেকে সেই বিকট আওয়াজ এবং বিলাপের শব্দ আর গ্রামের মানুষ শোনানি।

Imtiaz ahmed

                      অদ্ভুত সেই লোকটি                                   

১৯৮৮-৮৯ সালের ঘটনা ।বাবা তখন মুম্বাই থেকে লনাভালা বদলি হলেন ।মুম্বাই থেকে মোটামুটি ১২০কিমি দূরের পাহাড়ি একটা স্টেশন এই লনাভালা ।তখন আমি পড়ি ক্লাস নাইনে ।গ্রীষ্মের ছুটিতে মা বড় ভাই আর আমি বাবার কাছে চলে যেতাম ।আমার চাচতো ভাই পরাগ যে আমার থেকে কয়েক বছরের বড় থাকত লনা ভালাতেই ।সেখানে গেলেই তাই একসঙ্গে প্রচুর ঘোরাফেরা আর আড্ডাবাজি হত ।তবে আমাদের অবসর বিনোদনের সবচেয়ে পছন্দের জায়গা ছিল কাছের একটা পাহাড় ।একটা স্কুলের পাশেই ছিল ওটা ।সাইকেলে চেপে ফ্লাক্স ভর্তি কফি নিয়ে চলে যেতাম পাহাড়টায় ।পরাগের দুজন বন্ধুও সাধারনত সাইকেল নিয়ে আসত আমাদের সঙ্গ দিতে ।একরাতের ঘটনা
প্রিয় জায়গাটায় বসে কফি পান আর নানান আলাপে মশগুল আমরা ।এসময় একজন মানুষকে আসতে দেখলাম এদিকে ।কাছাকাছি হতেই দেখলাম রোগা,বুড়ো একজন মানুষ ।এতরাতে এমন একজন লোককে এখানে দেখে অবাক হলাম সবাই ।
কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম তিনি এখানে কি করছেন আর তার কোন সাহায্য লাগবে কিনা ।বুড়ো জানালেন কাছের একটা গ্রামে থাকেন ।আর মুম্বাইয়ের দিকে যাওয়া রাতের শেষ ট্রেনটা ধরবেন ।মুম্বাইয়ে ছেলের কাছে যাবেন ।লোকটার দূর্বল শরীর দেখে এমনিতেই মায়া হচ্ছে ।তারপর আবার মনে হলো হেঁটে গেলে নির্ঘাত ট্রেনটা মিস করবেন ।আর এসময় এদিক থেকে রেলস্টেশনে পৌছনোর কোন যান পাওয়ারও সুযোগ নেই ।কাজেই পরাগ তাকে তার বাইসাইকেলে করে স্টেশনে পৌছে দিতে চাইল ।পরাগের বন্ধুর সাইকেলে চেপে আমি আর আমার ভাইও ওদের সঙ্গী হলাম ।তাকে স্টেশনে নামিয়ে দিয়ে এসে আবারও গল্পে মেতে উঠলাম ।তারপরই যেটা ঘটল এটা মনে করে আজো শরীরে কাঁটা দিয়ে ওঠে আমার ।লোকটাকে নামিয়ে দিয়ে আসার পর আধঘন্টাও পার হয়নি ।সবারই ঘুম ঘুম আসছে ।বাসায় ফিরে যাওয়ার কথা ভাবতে শুরু করলাম ।এসময়ই অন্ধকারে একটা কাঠামোকে আসতে দেখলাম,একটু আগের লোকটা যেদিক থেকে এসেছেন সেদিক থেকেই ।তারপরই অবাক বিস্ময়ে আবিষ্কার করলাম সেই পলকা দেহের বুড়ো লোকটাই এগিয়ে এল আমাদের দিকে,যাকে অল্প আগে স্টেশনে নামিয়ে দিয়ে এসেছি ।বুড়ো কাছে এসে স্টেশনে পৌছে দেওয়ার অনুরোধ করলেন ।
আমরা সবাই বড় রকমের একটা ধাক্কা খেয়েছি ।মনে হলো যেন একটা ঘোরের মধ্যে আছি ।নড়তে পর্যন্ত পারছিনা ।মাত্র আধ ঘন্টার মধ্যে লোকটার পক্ষে কোনমতেই হেঁটে এখানে আসা সম্ভব নয় ।আর তিনি ফিরে এসে আবার স্টেশনেই বা যেতে চাইবেন কেন?
মনে মনে প্রার্থনা করতে শুরু করলাম ।আর এর জোরেই হোক কিংবা অন্য কোন কারনে হঠাত্‍ করেই যেন ঘোর কেটে গেল আমার ।ধাক্কা দিয়ে অন্যদেরও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনলাম ।তারপর সাইকেলে উঠে দ্রুত এই জায়গা ছাড়লাম ।একবার ও পিছু ফিরে তাকাবার সাহস করলাম না ।রাতে আমাদের একজনেরও ঘুম হলো না ।কয়েকদিন পর স্থানীয় লোকদের সেই বুড়ো লোকটার কথা জিজ্ঞেস করলাম ।কিন্তু কেউই তাঁর ব্যাপারে কিছু বলতে পারলোনা ।এমনকি বুড়ো লোকটাকে দেখেছে এমন মানুষও পাওয়া গেলনা ।তবে রাতে ওই পাহাড়ের কাছে না ঘেঁষার পরামর্শ দেওয়া হলো ।
এরপরও আরো অনেকবার লনাভালা গিয়েছি ।কিন্তু কখনো আমাদের পুরানো আড্ডার জায়গাটায় যাওয়ার সাহস করিনি
   

                       পুর্ণিমা রাতের ভূত

রোড এক্সিডেন্টে নানী মারা যাবার পরে নানাকে আবার বিয়ে দেওয়া হয় ।নতুন নানী খুবই ভালো মানুষ,তেমনই তার পরিবারের মানুষেরা ।নতুন নানীর বাপের বাড়ি ফরিদপুরের তাম্বুলখানা গ্রামে ।এই গ্রামের যে বড় বিলটি আছে তার মাঝখানে ছোট ছোট দ্বীপের মত আট-দশটা করে বাড়ি ।যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছোট নৌকা ।প্রায় সব পরিবারেই একটা করে নৌকা আছে ।ইলেকট্রিসিটি পৌছানোর প্রশ্নই ওঠেনা ।আমরা একবার খুব আয়োজন করে সেখানে বেড়াতে গেলাম ।ফরিদপুরের মানুষের রান্নার হাত খুবই ভালো ।দুপুরে আয়েশ করে একটা ঘুম দিয়ে বিকেলে উঠলাম ।এরপর নৌকো নিয়ে বিলে শাপলা তুলে বেড়ালাম ।সন্ধারপরে দেখি নানীর ছোট ভাই,জাহিদ ভাই নৌকা নিয়ে মাছ মারতে চলেছেন ।আমিও যাব সিদ্ধান্ত হলো ।আমরা তিনজন, আমি,জাহিদ ভাই ও তার বন্ধু মেহেদি ভাই ।সরন্জাম নেয়া হলো জাল, কোঁচ, হারিকেন এবং পর্যাপ্ত পরিমানে সিগারেট ।আমিও তখন সিগারেট খাওয়া শিখে গেছি ।খুব রোমান্ঞ্চ হচ্ছিলো ।
অর্ধেক চাঁদ আছে আকাশে,আমি নৌকোর মাঝখানে বাবু হয়ে বসে আকাশ দেখছি,আর সিগারেট টানছি ।অপুর্ব লাগছে প্রকৃতি!! অর্ধেক চাঁদও শহরের পুর্ণিমাকে হার মানায় ।তামাক পর্বে আমাকে ডাকা হলোনা ।কিছুটা মন খারাপ হলো ।এরপর শুরু হলো মাছ ধরা ।আমি বসে আছি চালক মেহেদি ভাইয়ের কাছাকাছি ।জাহিদ ভাই জাল মারছেন ।মাছ খারাপ উঠছেনা ।একটু দুরে বেশি মাছ পাওয়ার আশায় আমরা এগিয়ে চললাম ।যতই এগুই ততই মাছের পরিমান বেড়ে যায় ।আস্তে আস্তে লোকালয় থেকে বেশ দুরে চলে এলাম ।প্রচুর মাছ উঠছে ।মাছ গুলো নৌকার খোড়লে জমা করা হচ্ছে ।আমি নিষ্ক্রিয় বসে আছি ।হঠাত ঠান্ডা বাতাস উঠলো, গা হীম করা অনুভুতি ।এর পরেই হঠাত নৌকার চারপাশ থেকে কেমন মুট-মুট শব্দ হতে শুরু করলো ।ব্যাপারটা নিয়ে জাহিদ ভাইদের কোন উদ্বেগ দেখলাম না ।একমনে মাছ ধরছেন ।কিন্তু শব্দটা ক্রমেই অসহ্য উঠছে ।আমি একবার বলেই ফেললাম "ভাই, কেমন একটা কুট-মুট শব্দ পাচ্ছি।"
জাহিদ ভাই অভয় দিয়ে বললেন "নৌকার খোলে মাছ লাফানোর জন্য এমন শব্দ"
আমি ভাবলাম "তাই হবে"!!! তবে একটু ভয় ভয় হটতে লাগলো ।হারিকেনটা একটু উস্কে দিলাম ।জাহিদ ভাই বেশ কিছু মাছ তুলে মেহেদি ভাইকে বললেন " এবার তুই"।
বলে হারিকেন নিয়ে খোড়লের মাছ দেখতে গেলেন,এবং চিতকার করে লাফিয়ে সরে গেলেন ।আমি লাফ দিয়ে উঠে সরতে সরতে বললাম "ভাই কি হয়েছে"।
তিনি কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন"পেত্নি, মাছ খাচ্ছে!!"
আমি একটু উকি দিয়ে তাকালাম খোড়লের ভেতর ।যা দেখলাম তাতে গা শিউড়ে উঠলো ।একটি মাছেরও শরির নেই, শুধু অসংখ্য মাথা পড়ে আছে, আর রক্ত মেশানো পানি!!
মেহেদি ভাই বললেন "এখান থেকে সরে যেতে হবে!"
প্রানপনে দাঁড় টানা শুরু হলো, এবার শব্দটা কুট-কুট থেকে অনেক বেড়ে গিয়ে মট-মটের মত লাগছে ।
জাহিদ ভাই চিতকার করে বললেন "ওরা নৌকা ভাঙতে চাইছে...." বলেই আরও জোরে দাড় বাইতে থাকলেন,কিন্তু অদ্ভুত কারনে আমরা খুব একটা এগুতে পারছিনা ।আমার মনে ঝড় বইছে!এটা কিভাবে সম্ভব??
প্রানান্তকর চেষ্টা চলছে বাড়িতে পৌছানোর,শব্দ বেড়েই চলেছে। আমি দুজনের গা ঘেষে বসে আছি ।ভয়াবহ ভয় জড়িয়ে ফেলেছিলো আমাকে।
যাহোক শেষ মেশ জাহিদ ভাইদের বাড়ির দ্বীপমতো জায়গাটায় পৌছতে পারলাম ।নৌকো পাড়ে ঠেকতেই ঝপঝপ করে লাফিয়ে নামলাম ।নৌকাটা কোন রকম বেধে রেখেই দে দৌড়! এক দৌড়ে বাসা ।
জাহিদ ভাইয়ের চিল্লাচিল্লিতে সবাই উঠে এল ।কাহিনি শুনে সবাই হতবাক ।
পরে শুনেছিলাম ।বিল এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে অনেকেই এই বিপদে পড়েছেন ।অনেকের নৌকা উল্টে দেয়া হয়েছে ।কে এমন করে মাছ খায়? ওরা কারা, যাদের বলা হয় মাছ খেকো পেত্নী?
কে উল্টে দেয় নৌকা? কে? কোথায় ওরা থাকে?
আপনাদের কি মনে হয়?


লেখক 
ইউনুস খান
          

                               মেয়েটি                                       

ফ্লাটে বেশ রাত করে ফেরার অভ্যাস আমার ।আর কখনও এটা নিয়ে কোনো ঝামেলায়ও পড়তে হয়নি ।তবে একদিন রাত এগারোটার দিক এমন একটা ঘটনা ঘটল যেটা কোনদিন ভুলতে পারব না ।
কাজ শেষ করে বাসায় ফেরার আগে সেদিন শহরের অপর পাশের এক বন্ধুর বাড়িতে আড্ডা দিতে গিয়েছি ।সন্ধায় আবার আমার বউ বাচ্চাদের নিয়ে তার বাবার বাড়িতে গিয়েছে ।বাসাতে তাই কেউ নেই ।বেডক সংরক্ষিত এলাকায় এসে বাস থেকে নেমে পড়লাম ।তারপর যে ব্লকে থাকি সেদিকে চলে যাওয়া রাস্তা ধরে রওয়ানা হলাম ।বেশ রাত হয়ে যাওয়ায় পথে খুব একটা লোকজন নেই দেখে অবাক হলাম না ।তবে আমার সামনে একটা মেয়ে হাঁটছে ।মেয়েটার লম্বা চুল আর চমত্‍কার কাঠামো পিছন থেকেই পরিষ্কায় বোঝা যাচ্ছে ।স্বাভাবিকভাবেই একজন পুরুষ হিসাবে মনে কৌতূহল জেগে উঠল ।পিছন থেকে যেমন দেখা যাচ্ছে সামনে খেকেও কি সে এমন সুন্দর ?তাকে অতিক্রম করে যাওয়ার জন্য দ্রুত পা চালালাম ।
মেয়েটাকে পেরিয়ে গিয়েই চটজলদি একবার পিছন ফিরে চাইলাম দেখার জন্য ।মন্দ না ।তবে চেহারাটা কেমন ফ্যাকাসে ।যেহেতু সামনে চলে এসেছি তাই দ্রুত আমার ব্লকের দিকে হাঁটতে লাগলাম ।নয়ত আবার আমি তার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছি ভেবে মেয়েটা অস্বস্তিতে পড়ে যাবে ।যখন আমার ব্লকে পৌঁছলাম তখন পিছনে মেয়েটার আর কোন নিশানা পেলাম না,সামনে তো নয়ই ।বাড়ির সামনে এসে লিফটের অপেক্ষায় না থেকে সিঁড়ি বেয়ে পাঁচ তলায় ওঠা স্থির করলাম ।পাঁচ তলায় পৌছে সিঁড়ির কোনা থেকে সামনে তাকাতেই তাকে দেখতে পেলাম ।এটা সেই মেয়েটা,যে আমার পিছনে ছিল ।বারান্দায় দাঁড়িয়ে আমার অপেক্ষা করছে এখন ।আমার দিকে তাকিয়ে কুত্‍সীতভাবে হাসল সে ।উল্টো ঘুরেই দৌড়াতে শুরু করলাম ।পাশের ব্লকে বন্ধুর বাসায় পৌছনোর আগ পর্যন্ত থামলাম না ।সেই রাতে আর বাড়ি ফিরলাম না ।
ঈশ্বরকে ধন্যবাদ এমন ঘটনা জীবনে আর ঘটেনি ।

                              কবরস্থানে লাশ                                                             

তখন গভীর রাত।সময়টা ছিলো মাঘ মাস।চারদিকে তখন ঘন কুয়াশা ঢাকা। গ্রামের সব মানুষ তখন ঘুমিয়ে।শুধু একজন মানুষ এখন জেগে আছে।আর তিনি হলেন রবিন সাহেব।রবিন সাহেব একজন স্থানীয়নাট্য লেখক।এলাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য তিনি মঞ্চ নাটক লিখে থাকে।তাই প্রায় সময় তাকে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থেকে নাটকলিখতে হয়।আজকে ও তিনি নাটক লেখার কাজে ব্যস্ত।লিখতে লিখতে একসময় কিছুটা বিরক্ত হয়ে উঠলেন তিনি।এমন সময় মনে হলো প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে তাকে বাহিরে যেতে হবে।বাহিরে গিয়ে তিনি খেয়াল করলেন দূর থেকে একটিশব্দ তার কানে ভেসে আসছে।মনে হচ্ছে রাস্তা দিয়ে কেউ যাচ্ছে।কিন্তু এতো রাতে কে যাবে,এমন চিন্তা করতে করতে তিনি একটু সামনের দিকে অগ্রসর হলেন।সামনে গিয়ে হঠাত্‍ দেখতে পেলেন লম্বা সাদা জুব্বা পরা চার জন লোক জোরে জোরে দোয়া দরুদ পড়তে পড়তে এদিকে আসছে।তাদের কাঁধে ছিল একটি লাশে বোজায় করা খাট।কাছে আসতেই রবিন সাহেব সালাম দিয়ে জিগেস করেন আপনারা কোথায় যাচ্ছেন? তাদের মধ্য থেকে একজন উত্তর দিলেন লাশটি দাপন করার জন্য।রবিন সাহেব আবার জিগাস করলেন এতো রাতে কেন?আপনাদের সাথে আর কোন লোকজন নাই?এবার তারাজবাব দিলো বেওয়ারিশ লাশ তাই রাতে দাফন করা হচ্ছে,আর বাকি লোকজন গোরস্তানে অপেক্ষা করছে।এবার তারা রবিন সাহেব কে তাদের সাথে যেতে অনুরোধ করেন।রবিন সাহেব ও কোন আপত্তি করেনি।তাদের সাথে যেতে যেতে রবিন সাহেব লক্ষ্য করেন লাশটি নিয়ে তারা জঙ্গলের পিছনের একটি গোরস্তানের দিকে যাচ্ছে।যেখানে কিছুদিন আগে গ্রামের আবুল হোসেনের লাশ পাওয়া যায়।কে বা কারা তাকে হত্যা করে সেখানে ফেলে যায়।গোরস্তানের কাছে এসে রবিন সাহেব দেখতে পান আগে থেকে সেখানেদশ বারজন লোক উপস্থিত আছে।তাদের মধ্যে কিছু লোক কবর খুঁড়ার কাজেব্যস্ত।তাদের গায়ে ও ছিলো লম্বা সাদা জুব্বা পরা।হঠাত্‍ রবিন সাহেব দূর থেকে ঘোড়ার টগবগ টগবগ আওয়াজ শুনতে পেলেন।তিনি বুঝতে পারলেন ঘোড়ায় চড়ে কেউ এদিকে আসছে।এমন সময় ঘোড়ায় চড়ে একজন লোক এসে উপস্থিত হলেন।লোকটি ছিল উপস্থিত সবার চেয়ে অনেক লম্বা।উচ্চতা প্রায়৯ ফুটের উপরে হবে।চেহার ফর্সা মুখে লম্বা দাঁড়ি।রবিন সাহের জিগাস করলেন উনি কে?তাদের মধ্য থেকে একজন উত্তরে দিলেন উনি ইমাম সাহেব,লাশটির জানাজার নামাজ পড়াতে এসেছেন।জানাজার নামাজের আগে লাশটির চেহারা দেখা যাবে কি?উত্তরে তারা বলেন অবশ্যই দেখতে পারেন।এবার রবিন সাহেব একটু একটু করে লাশটির সামনে গেলেন।কাছে গিয়ে তিনি লাশটির মুখের দিকের ঢাকা সাদা কাপড়টি একটু ফাঁক করলেন।চেহারাটি কেমন জানি তার চেনা চেনা মনে হচ্ছে।হঠাত্‍ খেয়াল করলেন এটি দেখি তারি লাশ।এই দৃশ্য দেখে রবিন সাহেব ভয় পেয়ে গেলেন।তিনি জোরে চিত্‍কার দিতে চাইলেন।কিন্তু তার গলা থেকে কোন আওয়াজ বের হচ্ছেনা।
পরদিন সকালে কিছু লোক ঐ গোরস্তানের দিকে যাওয়ার সময় একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।কাছে গিয়ে লক্ষ্য করল এটি রবিন সাহেবের লাশ।আর ঠিক পাশে কে যেন একটি কবর খুঁড়ে রেখে গেছে।

                      নৌকার ভিতরে লাশ                                  

আজ যে ঘটনাটি শেয়ার করছি,তা আমার এক দূর সম্পর্কের মামার ।তিনি আমাদের নানাবাড়ীর পিছনের বাড়ীতে থাকেন এবং পেশায় একজন সারেং ।তার নাম আলী,ঘটনাটি তার মুখেই শুনেছি ।
আমার নানাবাড়ী যাওয়ার পথে গোমতী নদী পড়ে এবং এ নদীতেই দাউদকান্দি ব্রিজ অবস্থিত ।আলী মামা নদীতে ট্রলার চালান,একবার তিনি একটা লাশ নিয়ে আসার বায়না পেয়েছিলেন ।লাশের
সাথে দুজন লোক ছিলো যাদের শরীর সম্পূর্ণ সাদা কাপড় ঢাকা ।চেহারা এতোটা দেখা যাচ্ছিল না ।ঐ লোকেদের গ্রাম মামার গ্রামের আগে হওয়ার দরুন মামা ভাড়া নিতে রাজি হলেন কারণ মামা ঐ
গ্রামের পাশ দিয়েই যাবেন । তখন ছিল সন্ধ্যার সময়,সন্ধ্যা ৬টার পর কোন ট্রলার এ পথে আসেনা ।দাউদকান্দি ঘাট থেকে ঐ গ্রামে পৌছাতে প্রায় ৪৫ মিনিটের মত সময় লাগার কথা ।মামা বাড়ী আসার পথে প্রতিদিন নৌকা করে আসেন ।তিনি ঐ লাশ এবং দুজন লোককে তার নৌকায় উঠালেন এবং রওনা দিলেন ।আধা ঘন্টা নৌকা চললো ।হঠাত মামা একটা ভয়ংকর ব্যাপার লক্ষ্য করলেন !
লাশটা নৌকার ভেতরে বসে আছে এবং বাকী দুজন লোকের
সাথে নীচু গলায় কথাও বলছে ! ভয়ে মামা জমে গেলেন ! কিন্তু
তিনি সাহস রেখে নৌকা চালাতে লাগলেন ।ঐ গ্রামের ঘাট
আসার পর মামা নৌকা ভিড়ালেন ।তারপর কোনমতে তিনি নৌকা থেকে লাফ দিয়ে নেমে দৌড় লাগান ! তিনি বুঝতে পারলেন কিছু একটা তাকে ধরার
জন্য দৌড়ে তার পিছনে আসছে !
তিনি পেছনে না তাকিয়ে প্রাণপণে দৌড়াতে লাগলেন ।একটা সময় আর সহ্য করতে না পেরে অজ্ঞান
হয়ে পড়ে যান !জ্ঞান ফেরার পর
তিনি নিজেকে তার বাড়ীতে আবিষ্কার করলেন !বাড়ীর সবাই তার কাছে ঘটনা জানতে চাইলে তিনি সব খুলে বললেন ।এও জানতে চাইলেন যে,তাকে বাড়ীতে আনা হলো কিভাবে ?
মামার বাবা জানালেন,তিনি (আলী মামা) বাড়ীতে না আসার
কারণে তার কাকা তাকে খুঁজতে বের হয় ঐ গ্রামের ঘাটে নৌকা খালি অবস্থায় পাওয়া যায়
এবং কিছুক্ষণ খোঁজার পর তাকে একটা কবরস্থানের সামনে অজ্ঞান
অবস্থায় দেখতে পেয়ে কাকা তাকে বাড়ীতে নিয়ে আসেন ।আলী মামা এরপর থেকে আর সন্ধ্যাবেলা নৌকা করে আসতেন না ।খোঁজ
নিয়ে জানা যায়,ঐ গ্রামে কেউ
মারা যায়নি এবং কোন
লাশও কেউ কবর দিতে দেখেনি ।


লেখক
নিশাচর পাখি

 

                                   ফ্রিজের ভিতরে


প্রথমেই বলে নেই ঘটনাটি বিশ্বাস অবিশ্বাস পুরোটাই আপনাদের হাতে ।যেহেতু আমি এই ঘটনার স্বীকার তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম

আমার আব্বু সরকারী চাকুরী করত,প্রায়ই বদলি হত এবং আমরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতাম ।
আমি যখন ক্লাস নাইনে পড়ি তখন আমার সাথে একটা ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছিল ।আমরা তখন নতুন একটা বাড়িতে ভাড়া থাকতাম ।বাড়িটার যে মালিক তার দুইটা বাড়ি থাকায় বাড়িয়ালা এই বাড়ি ভাড়া দিত আরেকটা বাড়িতে সে নিজে থাকত ।আমাদের সেই বাড়িটা অনেক বড় ছিল ।কিন্তু বাড়ি অনুযায়ী ভাড়া কম দিতে হত ।বাড়িভাড়া কম হবার কারন আমরা জানতে পারলাম..............
এক রাত্রিতে আমরা সবাই ঘুমাচ্ছিলাম ।হঠাত্‍ ভয়ংকর শব্দ শুনতে পাই ।শুনি কে যেন দরজার বাইরে চিল্লাইতেছে ।তো আমরা পরিবারের সবাই উঠলাম কে চিল্লাইতেছে তাকে দেখার জন্য ।যেয়ে দেখি কেউ নাই ।আমরা সবাই অবাক ।পরদিন আমরা পাশের বাসার প্রতিবেশীকে ডেকে বললাম যে এই ব্যাপার গতরাতে কি আপনি কারো চিল্লানোর শব্দ পাইছেন ।প্রতিবেশী বলল কই না তো কোন শব্দ শুনতে পাইনিতো ।উনার কথা শুনে আমরা পুরাই অবাক যে এত জোরে চিত্‍কারের শব্দ হলো আর আমাদের বাড়ির পাশের প্রতিবেশী কিছুই শুনতে পেল না ।যাই হোক এবার আসি সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতায়

আমার তখন পরীক্ষা চলতেছিল ।সেইসময় আমাদের গ্রামে আমার এক দূরসম্পর্কের দাদা মারা যায় ।আমার দাদাবাড়ির লোকজনের সাথে সেই দাদার ভাল সম্পর্ক ছিল বলেই আমার আব্বু আম্মু সকাল হতেই রওনা দেই সেই দাদাকে শেষবার দেখার জন্য ।আমার পরীক্ষা চলছিল তাই আমি যেতে পারিনি ।তো আম্মু যাবার আগে আমার জন্য খাবার রান্না করে ফ্রীজে রেখে দিয়ে যায় কেননা সেইদিন রাতে আমাকে বাসায় একাই থাকতে হবে ।
তো দুপুরে খাবার খেয়ে বিছানায় শুয়ে আছি ।কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম নিজেই জানিনা ।হঠাত্‍ একটা দুঃস্বপ্নে ঘুমটা ভেঙ্গে যায় ।ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে ফ্রীজের ঠান্ডা পানি খেতে গেলাম ।ফ্রীজ খুলে দেখি ফ্রীজের পানি গরমই আছে ।একটুও ঠান্ডা হয়নি ।আমিতো পুরাই অবাক এ কি করে সম্ভব যেখানে ফ্রীজ ঠিক ভাবেই চলছে কিন্তু পানি একটুও ঠান্ডা হলো না ।তখনো আমার মাথায় প্যারানরমাল বিষয় কাজ করেনি ।তো আমি পানির বোতলটা নরমালে না রেখে ডিফের ভিতর রেখে দেই ।বিকেলে মাঠে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরলাম ।হাত মুখ ধুয়ে হালকা নাস্তা করে পড়তে বসলাম ।রাত তখন আনুমানিক সাড়ে আটটা হঠাত্‍ লোডশেডিং ।তো মোম জ্বালিয়ে পড়তেছিলাম ।অনেক্ষন হয়ে গেল ক্যারেন্ট আসছে না দেখে বিরক্ত লাগল খুব ।ঘড়িতে দেখি রাত ১১টা পার হয়ে গেছে ।তাই ডিনার করার জন্য ডাইনিং টেবিলে গেলাম ।ফ্রীজ খুলতে যাব দেখি ফ্রীজ আর খুলছেনা ।আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম কেননা আমি সন্ধায় নাস্তা করার সময় ফ্রীজের পানি খাইছি ।কিন্তু এখন খুলছেনা কেন ।অনেক টানাটানি করলাম ফ্রীজের হাতল ধরে ।কিন্তু কিছুতেই খুলতে পারছিলাম না ।এদিকে প্রচন্ড খিদা লাগছে কিন্তু খাবারগুলা তো সব ফ্রীজের ভিতরে ।ভয়ে আমি বাড়ির বাইরে চলে আসতে চাইলাম ।কিন্তু দরজা বাইর থেকে লক করা ।এবার আমি আরো ভয় পেলাম ।আমি চিত্‍কার করছিলাম কিন্তু হয়ত কেউ আমার চিত্‍কার শুনতে পাচ্ছিলোনা ।এদিকে মোমবাতিটা শেষ পর্যায়ে চলে আসতেছে ।মোমবাতির আলোয় দেখলাম রাত তখন প্রায় ১১টা বেজে ৫০মিনিট ।বাসায় টিএনটি ফোন ছিল দৌড়ে গেলাম আব্বুকে ফোন করতে ।কিন্তু যেয়ে দেখি ফোন ডেড হয়ে আছে ।আমি ভয়ে কাঁদতে শুরু করলাম ।তখন আমার কোন পার্সনাল মোবাইল ছিল না ।আমি পানি খাবার জন্য জগ খুললাম কিন্তু জগের ভিতর একফোটা পানিও ছিলনা ।তাই বাধ্য হয়ে বেসিনে গেলাম পানি খেতে ।কিন্তু পানি কেমন যেন নোনতা নোনতা লাগছিল ।চেয়ে দেখি পানির কালার কালো ।আমি বমি করে দিলাম ।এদিকে মোমবাতি নিভু নিভু পর্যায়ে চলে আসছে তাই বাধ্য হয়ে আমি আমার রুমে চলে আসতে লাগলাম ।যেমূহুর্তে আমি আমার রুমের দরজায় পা রাখব ঠিক সেই মূহুর্তে ফ্রীজের ভিতর ঠকঠক আওয়াজ শুনতে পাই ।মনে হচ্ছিল ফ্রীজের ভেতরে কেউ আটকা পড়েছে যে কিনা বাইরে বের হতে যাচ্ছে ।কৌতুহলের বশে হয়ত তখন দেখতে গিয়েছিলাম ফ্রীজের ভিতরে কি আছে ।কিন্তু যেয়ে যা দেখলাম তা হলো.......
আমি ভয়ে তখনো কাপতেছিলাম ।একহাতে নিভু নিভু মোমবাতি ধরেছিলাম ।যেই ফ্রীজের হাতলটা
ধরে টান দিলাম অমনি একটা পলিথিনের বস্তা দেখতে পাই ।তখন হয়তো আমার হুঁশ ছিলনা কেননা তখন একবারো আমার মনে হয়নি যে ফ্রীজের ভেতর পলিথিনের বস্তা আসবে কি করে আর আমার আম্মুর রান্না করা খাবারগুলা কই গেল !
আমি যখন বস্তা খুলছিলাম তখন হাত ভেজা ভেজা লাগছিল ।হঠাত্‍ আমি বস্তাটা উপরে তুলে জোরে ঝাকি দিলাম ।খুব কষ্টে বস্তাটা উপরে তুলেছিলাম কেননা বস্তাটা ভারী ছিল ।সাথে সাথে গলগল করে মানুষের কাঁটা,হাত,পা,মাথা,নাড়িভুড়ি পলিথিনের ভিতর থেকে মেঝেতে ছিটকে পড়ল ।আমার পা রক্তে মেখে গেল ।জ্ঞান হারানোর পূর্বে শেষবারের মত দেখলাম কাটা মাথার একটা চোখ গেলে গেছে আর এক চোখ খোলা ।সেই খোলা চোখ আমার দিকে তাকিয়ে আছে ।
যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখি আমি বিছানায় ।দেখি আম্মু পাশে বসে কাঁদছে আর আব্বু ডাক্তারের সাথে কথা বলছে ।
পুরোপুরি সুস্থ হবার পর সেই রাতের ঘটনা আব্বু আম্মুকে বলি ।
পরদিন আমরা বাড়িয়ালার বাসায় যাই ।আমার ঘটনায় বাড়িয়ালা লজ্জিত হয়ে বলল ''আজ থেকে ৭ বছর আগে ৪ জন ব্যাচেলর বাড়িটা ভাড়া নিয়েছিল ।তাদের মধ্যে কি নিয়ে যেন গন্ডগোল লাগে ।গন্ডগোলের একপর্যায়ে নাকি ৩জন মিলে একজনকে খুন করে ।পরদিন যেয়ে দেখি যে তাদের কেনা যে ফ্রীজটা ছিল সেই ফ্রীজের ভিতর টুকরা টুকরা লাশ পলিথিনের ব্যাগে ভড়া ।এই ঘটনাটি স্থানীয় পত্রিকায়ও আসছিল'' ।

এবার আসি সেই রাতের ঘটনার পর যা হয়েছিল.....
আব্বু আম্মু এসে দেখে আমি ফ্রীজের সামনে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছি ।।আমার জ্ঞান ফিরে ৩দিন পর ।।পরে জানতে পারি ঐরাতে এলাকায় কোন লোডশেডিং হয়নি ।।
বর্তমানে সেই হন্টেড বাড়িটা আর নাই ।।আমার ঘটনার পরপরই সেই বাড়িটা ভেঙ্গে ফেলা হয় ।।


লেখক 
নুরুল হুদা