ফ্রিজের ভিতরে
প্রথমেই বলে নেই ঘটনাটি বিশ্বাস অবিশ্বাস পুরোটাই আপনাদের হাতে ।যেহেতু আমি এই ঘটনার স্বীকার তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম
আমার আব্বু সরকারী চাকুরী করত,প্রায়ই বদলি হত এবং আমরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতাম ।
আমি যখন ক্লাস নাইনে পড়ি তখন আমার সাথে একটা ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছিল ।আমরা তখন নতুন একটা বাড়িতে ভাড়া থাকতাম ।বাড়িটার যে মালিক তার দুইটা বাড়ি থাকায় বাড়িয়ালা এই বাড়ি ভাড়া দিত আরেকটা বাড়িতে সে নিজে থাকত ।আমাদের সেই বাড়িটা অনেক বড় ছিল ।কিন্তু বাড়ি অনুযায়ী ভাড়া কম দিতে হত ।বাড়িভাড়া কম হবার কারন আমরা জানতে পারলাম..............
এক রাত্রিতে আমরা সবাই ঘুমাচ্ছিলাম ।হঠাত্ ভয়ংকর শব্দ শুনতে পাই ।শুনি কে যেন দরজার বাইরে চিল্লাইতেছে ।তো আমরা পরিবারের সবাই উঠলাম কে চিল্লাইতেছে তাকে দেখার জন্য ।যেয়ে দেখি কেউ নাই ।আমরা সবাই অবাক ।পরদিন আমরা পাশের বাসার প্রতিবেশীকে ডেকে বললাম যে এই ব্যাপার গতরাতে কি আপনি কারো চিল্লানোর শব্দ পাইছেন ।প্রতিবেশী বলল কই না তো কোন শব্দ শুনতে পাইনিতো ।উনার কথা শুনে আমরা পুরাই অবাক যে এত জোরে চিত্কারের শব্দ হলো আর আমাদের বাড়ির পাশের প্রতিবেশী কিছুই শুনতে পেল না ।যাই হোক এবার আসি সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতায়
আমার তখন পরীক্ষা চলতেছিল ।সেইসময় আমাদের গ্রামে আমার এক দূরসম্পর্কের দাদা মারা যায় ।আমার দাদাবাড়ির লোকজনের সাথে সেই দাদার ভাল সম্পর্ক ছিল বলেই আমার আব্বু আম্মু সকাল হতেই রওনা দেই সেই দাদাকে শেষবার দেখার জন্য ।আমার পরীক্ষা চলছিল তাই আমি যেতে পারিনি ।তো আম্মু যাবার আগে আমার জন্য খাবার রান্না করে ফ্রীজে রেখে দিয়ে যায় কেননা সেইদিন রাতে আমাকে বাসায় একাই থাকতে হবে ।
তো দুপুরে খাবার খেয়ে বিছানায় শুয়ে আছি ।কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম নিজেই জানিনা ।হঠাত্ একটা দুঃস্বপ্নে ঘুমটা ভেঙ্গে যায় ।ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে ফ্রীজের ঠান্ডা পানি খেতে গেলাম ।ফ্রীজ খুলে দেখি ফ্রীজের পানি গরমই আছে ।একটুও ঠান্ডা হয়নি ।আমিতো পুরাই অবাক এ কি করে সম্ভব যেখানে ফ্রীজ ঠিক ভাবেই চলছে কিন্তু পানি একটুও ঠান্ডা হলো না ।তখনো আমার মাথায় প্যারানরমাল বিষয় কাজ করেনি ।তো আমি পানির বোতলটা নরমালে না রেখে ডিফের ভিতর রেখে দেই ।বিকেলে মাঠে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরলাম ।হাত মুখ ধুয়ে হালকা নাস্তা করে পড়তে বসলাম ।রাত তখন আনুমানিক সাড়ে আটটা হঠাত্ লোডশেডিং ।তো মোম জ্বালিয়ে পড়তেছিলাম ।অনেক্ষন হয়ে গেল ক্যারেন্ট আসছে না দেখে বিরক্ত লাগল খুব ।ঘড়িতে দেখি রাত ১১টা পার হয়ে গেছে ।তাই ডিনার করার জন্য ডাইনিং টেবিলে গেলাম ।ফ্রীজ খুলতে যাব দেখি ফ্রীজ আর খুলছেনা ।আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম কেননা আমি সন্ধায় নাস্তা করার সময় ফ্রীজের পানি খাইছি ।কিন্তু এখন খুলছেনা কেন ।অনেক টানাটানি করলাম ফ্রীজের হাতল ধরে ।কিন্তু কিছুতেই খুলতে পারছিলাম না ।এদিকে প্রচন্ড খিদা লাগছে কিন্তু খাবারগুলা তো সব ফ্রীজের ভিতরে ।ভয়ে আমি বাড়ির বাইরে চলে আসতে চাইলাম ।কিন্তু দরজা বাইর থেকে লক করা ।এবার আমি আরো ভয় পেলাম ।আমি চিত্কার করছিলাম কিন্তু হয়ত কেউ আমার চিত্কার শুনতে পাচ্ছিলোনা ।এদিকে মোমবাতিটা শেষ পর্যায়ে চলে আসতেছে ।মোমবাতির আলোয় দেখলাম রাত তখন প্রায় ১১টা বেজে ৫০মিনিট ।বাসায় টিএনটি ফোন ছিল দৌড়ে গেলাম আব্বুকে ফোন করতে ।কিন্তু যেয়ে দেখি ফোন ডেড হয়ে আছে ।আমি ভয়ে কাঁদতে শুরু করলাম ।তখন আমার কোন পার্সনাল মোবাইল ছিল না ।আমি পানি খাবার জন্য জগ খুললাম কিন্তু জগের ভিতর একফোটা পানিও ছিলনা ।তাই বাধ্য হয়ে বেসিনে গেলাম পানি খেতে ।কিন্তু পানি কেমন যেন নোনতা নোনতা লাগছিল ।চেয়ে দেখি পানির কালার কালো ।আমি বমি করে দিলাম ।এদিকে মোমবাতি নিভু নিভু পর্যায়ে চলে আসছে তাই বাধ্য হয়ে আমি আমার রুমে চলে আসতে লাগলাম ।যেমূহুর্তে আমি আমার রুমের দরজায় পা রাখব ঠিক সেই মূহুর্তে ফ্রীজের ভিতর ঠকঠক আওয়াজ শুনতে পাই ।মনে হচ্ছিল ফ্রীজের ভেতরে কেউ আটকা পড়েছে যে কিনা বাইরে বের হতে যাচ্ছে ।কৌতুহলের বশে হয়ত তখন দেখতে গিয়েছিলাম ফ্রীজের ভিতরে কি আছে ।কিন্তু যেয়ে যা দেখলাম তা হলো.......
আমি ভয়ে তখনো কাপতেছিলাম ।একহাতে নিভু নিভু মোমবাতি ধরেছিলাম ।যেই ফ্রীজের হাতলটা
ধরে টান দিলাম অমনি একটা পলিথিনের বস্তা দেখতে পাই ।তখন হয়তো আমার হুঁশ ছিলনা কেননা তখন একবারো আমার মনে হয়নি যে ফ্রীজের ভেতর পলিথিনের বস্তা আসবে কি করে আর আমার আম্মুর রান্না করা খাবারগুলা কই গেল !
আমি যখন বস্তা খুলছিলাম তখন হাত ভেজা ভেজা লাগছিল ।হঠাত্ আমি বস্তাটা উপরে তুলে জোরে ঝাকি দিলাম ।খুব কষ্টে বস্তাটা উপরে তুলেছিলাম কেননা বস্তাটা ভারী ছিল ।সাথে সাথে গলগল করে মানুষের কাঁটা,হাত,পা,মাথা,নাড়িভুড়ি পলিথিনের ভিতর থেকে মেঝেতে ছিটকে পড়ল ।আমার পা রক্তে মেখে গেল ।জ্ঞান হারানোর পূর্বে শেষবারের মত দেখলাম কাটা মাথার একটা চোখ গেলে গেছে আর এক চোখ খোলা ।সেই খোলা চোখ আমার দিকে তাকিয়ে আছে ।
যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখি আমি বিছানায় ।দেখি আম্মু পাশে বসে কাঁদছে আর আব্বু ডাক্তারের সাথে কথা বলছে ।
পুরোপুরি সুস্থ হবার পর সেই রাতের ঘটনা আব্বু আম্মুকে বলি ।
পরদিন আমরা বাড়িয়ালার বাসায় যাই ।আমার ঘটনায় বাড়িয়ালা লজ্জিত হয়ে বলল ''আজ থেকে ৭ বছর আগে ৪ জন ব্যাচেলর বাড়িটা ভাড়া নিয়েছিল ।তাদের মধ্যে কি নিয়ে যেন গন্ডগোল লাগে ।গন্ডগোলের একপর্যায়ে নাকি ৩জন মিলে একজনকে খুন করে ।পরদিন যেয়ে দেখি যে তাদের কেনা যে ফ্রীজটা ছিল সেই ফ্রীজের ভিতর টুকরা টুকরা লাশ পলিথিনের ব্যাগে ভড়া ।এই ঘটনাটি স্থানীয় পত্রিকায়ও আসছিল'' ।
এবার আসি সেই রাতের ঘটনার পর যা হয়েছিল.....
আব্বু আম্মু এসে দেখে আমি ফ্রীজের সামনে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছি ।।আমার জ্ঞান ফিরে ৩দিন পর ।।পরে জানতে পারি ঐরাতে এলাকায় কোন লোডশেডিং হয়নি ।।
বর্তমানে সেই হন্টেড বাড়িটা আর নাই ।।আমার ঘটনার পরপরই সেই বাড়িটা ভেঙ্গে ফেলা হয় ।।
লেখক
নুরুল হুদা
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন