মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৩


                              কবরস্থানে লাশ                                                             

তখন গভীর রাত।সময়টা ছিলো মাঘ মাস।চারদিকে তখন ঘন কুয়াশা ঢাকা। গ্রামের সব মানুষ তখন ঘুমিয়ে।শুধু একজন মানুষ এখন জেগে আছে।আর তিনি হলেন রবিন সাহেব।রবিন সাহেব একজন স্থানীয়নাট্য লেখক।এলাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য তিনি মঞ্চ নাটক লিখে থাকে।তাই প্রায় সময় তাকে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থেকে নাটকলিখতে হয়।আজকে ও তিনি নাটক লেখার কাজে ব্যস্ত।লিখতে লিখতে একসময় কিছুটা বিরক্ত হয়ে উঠলেন তিনি।এমন সময় মনে হলো প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে তাকে বাহিরে যেতে হবে।বাহিরে গিয়ে তিনি খেয়াল করলেন দূর থেকে একটিশব্দ তার কানে ভেসে আসছে।মনে হচ্ছে রাস্তা দিয়ে কেউ যাচ্ছে।কিন্তু এতো রাতে কে যাবে,এমন চিন্তা করতে করতে তিনি একটু সামনের দিকে অগ্রসর হলেন।সামনে গিয়ে হঠাত্‍ দেখতে পেলেন লম্বা সাদা জুব্বা পরা চার জন লোক জোরে জোরে দোয়া দরুদ পড়তে পড়তে এদিকে আসছে।তাদের কাঁধে ছিল একটি লাশে বোজায় করা খাট।কাছে আসতেই রবিন সাহেব সালাম দিয়ে জিগেস করেন আপনারা কোথায় যাচ্ছেন? তাদের মধ্য থেকে একজন উত্তর দিলেন লাশটি দাপন করার জন্য।রবিন সাহেব আবার জিগাস করলেন এতো রাতে কেন?আপনাদের সাথে আর কোন লোকজন নাই?এবার তারাজবাব দিলো বেওয়ারিশ লাশ তাই রাতে দাফন করা হচ্ছে,আর বাকি লোকজন গোরস্তানে অপেক্ষা করছে।এবার তারা রবিন সাহেব কে তাদের সাথে যেতে অনুরোধ করেন।রবিন সাহেব ও কোন আপত্তি করেনি।তাদের সাথে যেতে যেতে রবিন সাহেব লক্ষ্য করেন লাশটি নিয়ে তারা জঙ্গলের পিছনের একটি গোরস্তানের দিকে যাচ্ছে।যেখানে কিছুদিন আগে গ্রামের আবুল হোসেনের লাশ পাওয়া যায়।কে বা কারা তাকে হত্যা করে সেখানে ফেলে যায়।গোরস্তানের কাছে এসে রবিন সাহেব দেখতে পান আগে থেকে সেখানেদশ বারজন লোক উপস্থিত আছে।তাদের মধ্যে কিছু লোক কবর খুঁড়ার কাজেব্যস্ত।তাদের গায়ে ও ছিলো লম্বা সাদা জুব্বা পরা।হঠাত্‍ রবিন সাহেব দূর থেকে ঘোড়ার টগবগ টগবগ আওয়াজ শুনতে পেলেন।তিনি বুঝতে পারলেন ঘোড়ায় চড়ে কেউ এদিকে আসছে।এমন সময় ঘোড়ায় চড়ে একজন লোক এসে উপস্থিত হলেন।লোকটি ছিল উপস্থিত সবার চেয়ে অনেক লম্বা।উচ্চতা প্রায়৯ ফুটের উপরে হবে।চেহার ফর্সা মুখে লম্বা দাঁড়ি।রবিন সাহের জিগাস করলেন উনি কে?তাদের মধ্য থেকে একজন উত্তরে দিলেন উনি ইমাম সাহেব,লাশটির জানাজার নামাজ পড়াতে এসেছেন।জানাজার নামাজের আগে লাশটির চেহারা দেখা যাবে কি?উত্তরে তারা বলেন অবশ্যই দেখতে পারেন।এবার রবিন সাহেব একটু একটু করে লাশটির সামনে গেলেন।কাছে গিয়ে তিনি লাশটির মুখের দিকের ঢাকা সাদা কাপড়টি একটু ফাঁক করলেন।চেহারাটি কেমন জানি তার চেনা চেনা মনে হচ্ছে।হঠাত্‍ খেয়াল করলেন এটি দেখি তারি লাশ।এই দৃশ্য দেখে রবিন সাহেব ভয় পেয়ে গেলেন।তিনি জোরে চিত্‍কার দিতে চাইলেন।কিন্তু তার গলা থেকে কোন আওয়াজ বের হচ্ছেনা।
পরদিন সকালে কিছু লোক ঐ গোরস্তানের দিকে যাওয়ার সময় একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।কাছে গিয়ে লক্ষ্য করল এটি রবিন সাহেবের লাশ।আর ঠিক পাশে কে যেন একটি কবর খুঁড়ে রেখে গেছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন