রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৩

নরমাংশভোজী এক সাইকো তরুণ

ভয়াবহ এক কাহিনী । পড়ে আপনার
রোম দাড়িয়ে যাবে,

শুরুটা কিভাবে করব ঠিক
বুঝতে পারছি না ।
কি পরিচয় দেব নিজেকে ?
আমি নিজেকে মনে করি একজন
মানুষ , খুব সাধারন একজন মানুষ ।
কিন্তু লোকেরা আমাকে ডাকে পিশাচ
বলে ।
খুব খাপছাড়া লাগছে ! তাই না ?
খুলেই বলি তাহলে । আমার নাম
ফ্রয়েড । শৈশবের স্মৃতিটা আমার
খুব একটা মনে নেই । যা আছে , তা হল , একদিন
বাবাকে দেখলাম ,
মাকে গলা কেটে খুন করতে !
বাবা তারপর মায়ের পেট
চিড়ে কলিজা বের করে । হিংস্র
মাংসাশী পশুর মত মায়ের রক্ত পান করল বাবা । গ্রামের
লোকেরা ঘটনা জানার পর
বাবাকে পুড়িয়ে মারে , আর
আমাকে করে গ্রামছাড়া ।
অন্য গ্রামে ঠাই হয় আমার ।
ভিক্ষাবৃত্তিই হল আমার বাচার একমাত্র অবলম্বন ।
একদিন রাতে ক্ষুধা তৃষ্ণায় কাতর
হয়ে হাঁটছিলাম রাস্তায় ।
হাতে একটা পয়সাও জোটেনি আজ ।
রাস্তায় আমার মত আরও দু
চারটা ভবঘুরে ছেলেমেয়েও আছে । রাস্তার
পাশে ফুটপাতে দেখলাম
একটা বাচ্চা মেয়ে শুয়ে আছে ।
নোংরা কাথা গায়ে দিয়ে । হঠাৎ
আমার কি হল জানিনা । ঘৃণা ,
প্রচণ্ড এক ঘৃণা জেগে উঠল আমার মনে । রাস্তা থেকে বড়
একটা পাথর
কুড়িয়ে ঝাপিয়ে পড়লাম মেয়েটার
উপর । ভীষণ
চমকে মেয়েটা চিৎকার
দিয়ে উঠল । পাথরের দু ঘায়ে ফাটিয়ে দিলাম মাথার
খুলি । টেনে খুলে ফেললাম মাথার
বা পাশের হাড় ।
গলগল করে বেরিয়ে এল উষ্ণ
তাজা রক্ত । উষ্ণ ,
নোনা রক্তে ভিজিয়ে নিলাম গলা
। মগজটা টেনে বের করলাম
। কামড়ে কামড়ে খেয়ে ফেললাম
পুরোটা ।
এরপর থেকেই
প্রতি রাতে চলতে লাগলো আমার
নরমাংশ ভোজন । কিছুদিন পর
আমাকে সে এলাকা ছাড়তে হল ।
মানুষ
সেখানে সাবধানী হয়ে উঠেছে ।
রাতে বিশেষ পাহাড়া দেয়ার
ব্যবস্থা করল তারা । অন্য এলাকায় গিয়ে এক কশাই এর
দোকানে চাকরি পেয়ে গেলাম ।
রক্ত আর কাচা মাংশ আমাকে সব
সময় আকর্ষণ করে । কশাই এর
কাজটা তাই শুধু মনোযোগ
দিয়ে না , আনন্দের সাথেই করতে লাগলাম । শুকরের মাংস আর
কলিজা সরাতে লাগলাম
পাইকারি হারে । একদিন
ধরা পড়লাম হাতে নাতে ।
পিটিয়ে বের করে দিল আমাকে ।
আবার ফিরে এলাম নিজ গায়ে । এরই মধ্যে কেটে গেছে প্রায়
পনেরটি বছর । কেউ
আমাকে চেনেনা । আগের
ঘটনাগুলো সবাই ভুলে গেছে ।
আমাদের
বাড়িটা পুড়িয়ে দিয়েছিল গ্রামের লোকেরা । পোস্ট
মাস্টারের একটা কাজ
পেয়ে গেলাম ।
শুরু হল আমার নতুন জীবন ।
এবার শুধু মাংশের চাহিদা নয় ,
বিকৃত যৌন চাহিদাও পূরণ করতে লাগলাম ।
যুবতী তরুণীরা ছিল আমার শিকার
। যৌন সুখের পর খুন করতাম ওদের
। তার পর বুক চিরে কলিজা আর
হৃৎপিণ্ড খেতাম ।
একবার এক গর্ভবতী মহিলাকে ধরেছিলাম ।
জননাঙ্গ দিয়ে লোহার রড
ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম । পেট
চিরে দেখলাম , জরায়ু
ছিড়ে একটা বাচ্চার মাথা বের
হয়ে এসেছে । মহিলার চেয়ে বাচ্চাটাকেই সুস্বাদু
মনে হয়েছিল বেশি ।
প্রায় হাজার খানেক খুন
করেছি আমি ।

কিন্তু ধরা পড়ে গেলাম আজ ।
একটা বাচ্চাকে চুরি করে নিয়ে এ ।
অনেক আগে থেকেই লোকজন
আমাকে সন্দেহ করা শুরু করেছিল ।
আরও সচেতন হওয়া উচিৎ ছিল
আমার ।
ঐ তো ! বারান্দায় লোকদের পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে । সময়
আর বেশী নেই । দরজা ভাঙার
শব্দ শুনতে পাচ্ছি

। [ দরজা ভাঙার পর ঘরে কাউকে খুজে পাওয়া যায়নি । শুধু টেবিলের উপর একটা নীল রঙের খাতা পাওয়া গিয়েছে । সেটাতেই ফ্রয়েড কথা গুলো লিখেছিল । এরপর ফ্রয়েডকে আর কোথাও দেখা যায়নি 
লিখেছেন - আহমাদ মুনিরুল হক
( ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ) ।
 

শনিবার, ১৫ জুন, ২০১৩

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: ভৌতিক গল্প (সত্য ঘটনা অবলম্বনে), দুর্বল হৃদয়ের মানুষ এড়িয়ে যেতে পারেন!



জায়গীর বাড়ির এই রুমটি রফিকের ভারী পছন্দ । সুন্দর-পরিপাটি করে নিজ হাতে সাজানো । শোয়ার বিছানা আর পড়ার টেবিল বাদ দিলে তেমন কোনো আসবাবপত্র নেই রুমে । পুরো রুমটিতে একটি মাত্র খুঁত– বিছানার ঠিক উপরে টিনের চালের সাথে রক্সি পেইন্টের খালি একটা কৌটা বেঁধে রাখা, বৃষ্টির পানি জমে সেই কৌটায় ।

ঘোর বর্ষাকাল এখন, সময়-অসময়ে বৃষ্টি নামে । এতো জায়গায় থাকতে ঠিক মাথার বালিশ বরাবর টিনে ছিদ্র কেন হলো– এই চিন্তায় রফিকের মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো । মেজাজ খারাপ হলে তার মুখে থুথু আসে, মুখে এক গাদা থুথু নিয়ে রফিক মুখ কালো করে বসে আছে । থুথু ফেলতে হলে ঘর থেকে বের হতে হবে, কিন্তু বিছানা থেকে নামতে ইচ্ছে করছে না তার । খানিক বাদে থু' করে মাটির মেঝেতে থুথু ফেলার চেষ্টা করলো রফিক, কপাল খারাপ তার– থুথু গিয়ে পড়লো তার স্যান্ডেলের ওপর ।

বিরস মুখে স্যান্ডেলে পড়া থুথু দেখছে রফিক, আজকে সব কিছু এমন উল্টোপাল্টা হচ্ছে কেন– এটাই ধরতে পারছে না সে!

ঘড়িতে রাত ১১ টা ৪০ বাজে । থুথুওয়ালা স্যান্ডেল পরে রফিক ঘর থেকে বেরোলো । স্কুল মাঠের দিকে হাঁটা দিলো সে । বিশাল এক চ্যালেঞ্জ নিয়েছে রফিক, জিততে পারলে নগদ ১০০০ টাকা । এই টাকার লোভই মধ্যম প্রকৃতির ভীতু রফিককে অসীম সাহসী করে তুলেছে ।

কাজটি খুব বড় কিছু না, জায়গীর বাড়ির উত্তরে বিশাল কবরস্থান, সপ্তাহ দুই আগে মুন্সী বাড়ির শহীদ মুন্সীর কবর দেয়া হয়েছিল সেখানে । দুই সপ্তাহে এই নিয়ে তিনবার কবর ভাঙ্গলো বৃষ্টির পানির স্রোতে । রফিকের বন্ধুদের আবার ভিন্ন ধারণা, অশরীরী কিছু একটা আছে ওখানে ।

কবরস্থানের পাশ ঘেঁষে মাটির রাস্তা, গত পরশু রাতে বাজার থেকে বন্ধুদের সাথে ফেরার সময় দেখা গেলো ভাঙ্গা কবরের ভেতর শহীদ মুন্সীর দাঁত চকচক করছে । তখনি বাজির কথা উঠলো, রাত ১২ টার সময় কবর থেকে মুন্সীর দাঁতের পাটি তুলে আনতে পারলে নগদ ১০০০ টাকা । রফিক সাহসের সাথে বাজি ধরেছে, স্কুলের মাঠের দিকে এতো রাতে যাবার কারণ সেটাই ।

সিদ্ধান্ত হলো মড়ার দাঁতের পাটি নিয়ে রফিক হেঁটে স্কুলের মাঠেই ফেরত আসবে । টাকা নগদে দেয়া হবে– রফিককে আশ্বস্ত করলো মামুন, টাকা নিয়ে মামুনরা অপেক্ষায় থাকবে ।

বুকে ফু দিয়ে আল্লাহর নাম নিয়ে রওনা করলো রফিক, সাথে লাইট জাতীয় কিছু নেয়া যাবে না । ঘুটঘুটে অন্ধকারে কবরস্থানের দিকে পা চালালো সে । কবরস্থানের মাথায় এসে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নেয়ার কথা ভাবলো রফিক, প্রথম ভয়টা পেল ঠিক তখুনি ।

মেঘলা আকাশে হঠাত বিকট শব্দ করে বিদ্যুত চমকালো, মুহুর্তের আলোয় রফিক পাঁচ হাত সামনে কুচকুচে কালো একটি বিড়াল দেখতে পেল । বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠলো তার, বিড়ালের জ্বলজ্বল করা চোখ এখনো পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে ।
ধুম করেই বৃষ্টি নামলো । পিচ্ছিল মাটিতে আঙ্গুল টিপে হাঁটতে হাঁটতে আরেকবার দুনিয়া ভেঙ্গে বাজ পড়লো । রফিকের মনে হলো বাজ বোধহয় মুন্সীর কবরের কাছেই পড়লো! কানে তালা লেগে গেলো রফিকের, আঙ্গুল দিয়ে কান ঝাঁকানোর সময় আরো চারটি কালো বিড়াল আবিষ্কার করলো সে । কবরস্থানে ঢুকার পর এই প্রথম গা ছমছম করে উঠলো তার!

পাঁচ-পাঁচটি কালো বিড়াল হাতের বামে রেখে দোআ-কালাম পড়তে পড়তে এগিয়ে গেলো রফিক, বৃষ্টির গতি হুহু করে বাড়ছে । কোনাকুনি ১৫ হাতের মধ্যেই মুন্সীর কবর, আরো কয়েক হাত সামনে গিয়ে পেছন ফেরলো সে । তাজ্জব কাহিনী, বিড়ালের নাম-গন্ধ পর্যন্ত নেই! সামনে ফিরে এগুতে গিয়েই থমকে দাঁড়ালো রফিক, মুন্সীর কবরের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিড়ালগুলো, ফসফরাসের দাঁত বিড়ালগুলোর ঠিক সামনে!

মনে সাহস নিয়ে আরো কয়েক হাত সামনে গেলো রফিক, মাঝখানের বিড়ালটি শরীর হিম করা লম্বা ডাক দিলো । বিড়ালের ডাক না; অন্য কিছুর ডাক হবে, রফিকের জীবনে এতো হিংস্র কোনো কিছুর ডাক শুনে নি সে ।

রফিকের স্থির বিশ্বাস, এই পাঁচটি আর যাই হোক- বিড়াল অন্তত নয় । রফিকের বিশ্বাস প্রমান করতেই যেন 'প্রানীগুলো' কবরের ভেতর থেকে টানতে টানতে গোলাকার একটা কিছু নিয়ে ঠেলে দিলো সামনে । ঘোর অন্ধকারেও পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিলো– মুন্সীর মাথার খুলি সেটা! বৃষ্টির পানি দুই চোখের জায়গার ছিদ্র দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে । দুই সপ্তাহের মড়া, চুল-দাড়ি পঁচে নি এখনো ।

অনেক কষ্টে চুল কিংবা দাড়ি- কিছু একটা ধরে প্রানীগুলোর দিকে ছুড়ে মারলো খুলিটি সে, ক্ষুধার্ত পশুর মতো ওটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো প্রাণীগুলো, শুধু একটি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলো জ্বলজ্বল করা দাঁতের সামনে । মুরগির রানের মতো মটমট করে মুন্সীর খুলি খাচ্ছে চারটে বিড়াল– চোখের সামনে এই দৃশ্য দেখে জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা তার, শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা কিছু একটা বয়ে গেলো রফিকের ।

এখান থেকে আর যাই হোক- ফিরে যাওয়া চলবেন না, রফিক ঠিক করে ফেললো । নিচু হয়ে মাটির মধ্যে হামাগুড়ি দিয়ে এগোলো সে, লম্বা করে শ্বাস নিলো দাঁতের পাটি ছোঁ মেরে নেয়ার আগে । তক্ষুনি কড়কড় শব্দে বাজ পড়লো আরেকবার, বিদ্যুতের ঝলকানিতে মুন্সীর খুলিবিহীন শরীর থরথর করে কাঁপছে!

মুহুর্তেই ছোঁ মেরে দাঁতের পাটি টান মেরে ঝেড়ে দৌড় দিলো রফিক । উর্ধ্বশ্বাসে দৌড়াতে দৌড়াতে পেছন ফিরে তাকিয়ে মূর্ছা যাবার দশা তার, পাঁচটি প্রাণীই তীব্র বেগে পিছু নিয়েছে । সমানে পা চালালো রফিক, ওই যে স্কুল ঘরের আলো দেখা যাচ্ছে । শেষ দমটুকু নিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে রফিক, ডান হাতে শক্ত করে ধরে রেখেছে দাঁতের পাটি । তীব্র বৃষ্টির মধ্যে হঠাত করেই আশেপাশের সব কিছু অন্ধকার হয়ে এলো তার কাছে, স্কুল ঘরের কোনায় গিয়ে জ্ঞান হারালো রফিক!

পাদটিকা: পরেরদিন বাদ জোহর মুন্সীর ভেঙ্গে যাওয়া কবর আবার বাঁধানো হলো । রফিকের শরীর ভেঙ্গে জ্বর আসছে, তারপরেও সবার সাথে এসেছে সে । মুন্সীর খুলি পাওয়া গেলো কবরের থেকে ১০/১২ দক্ষিনে, মানুষজন নানা কথা বলছে । মামুনদের সাথে চোখাচোখি হতেই চোখ নামিয়ে নিলো রফিক, জ্ঞান ফেরার পরে সব বলেছে সে তাদের ।

সব শেষ করে আসরের নামাজের পরে বাড়ি ফিরল রফিক । বালিশের নিচ থেকে ১০০ টাকার ১০টা চকচকে নোট নিয়ে আয়নার সামনে গিয়ে মুখের কাছে ধরলো রফিক । কান পর্যন্ত হাসি টেনে টাকাগুলো পকেটে চালান করে দিয়ে আয়নার দিকে তাকাতেই ভয়ে কুঁকড়ে গেলো সে । আস্তে করে মুখের ভেতর হাত দিলো সে, সামনের মাড়ির মাঝখানের দুটো দাঁত খুলে অবলীলায় হাতের সাথে চলে এলো ।

রক্তের চিহ্ন পর্যন্ত নেই সেখানে! দুটো দাঁতই শুকনো, মাটি লাগা; ঠিক শহীদ মুন্সীর দাঁতের মতো!!
javed kaisar

মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৩


                   মাছ ধরার নেশা                                     


আমার মাছ ধরার অভ্যাসটা নিশায় পরিণত হয়ে গেলো।
প্রতিদিন রাতে কুঁচ নিয়ে মাছ ধরতে যেতে না পারলে রাতে আমার ভালো ঘুমই হতোনা।
আমি আর বাবুল ভাই রাত্র ১১ টা বাজলেই মাছ ধরতে চলে যেতাম ।আজকে বাবুল ভাই কোনভাবেই মাছ ধরতে যাবেনা। কেননা মিসির কাকারে আজকে চরের মাঝে পুড়েছে। সকালবেলা শুনেছি মিসির কাকা মারা গেছে। হিন্দুরা আবার লাশ বেশীক্ষণ রাখেনা।
তাই সন্ধার মাঝেই মিসির কাকারে পুড়ে ফেলা হয়েছে। বাবুল ভাই বললো, যেদিন কোন লাশ পোড়া হয় সেদিন নাকি ঐ লাশের প্রেতাত্না ঘুরে বেড়ায়।
আমিও তার কথায় ভয় পেয়ে গেলাম। তাই সেদিন আর মাছ ধরতে যায়নি।
কিন্তু পরের দিন আর মন বাঁধ মানলোনা।
আমার পাগলামী আর সাহস দেখে বাবুল ভাইও রাজী হয়ে গেলো।
১১টায় আমি বাবুল ভাইয়ের দোকানেকুঁচ, লাইট, খালই নিয়ে চলে আসলাম।
বের হবো ঠিক এমন সময় ঝুপকরে বৃষ্টি নেমে পড়লো।
বাবুল ভাই বললো বৃষ্টি হলে নাকি ভালো কারন তখন পানি পরিষ্কার থাকে আর মাছেরাও উপরে উঠে আসে।
আমরা বসে বসে প্লান করতে লাগলাম কিভাবে যাবো, কোথায় কোথায় মাছ ধরতে যাবো? ১২ টার দিকে আমরা মাছ ধরতে বের হয়ে গেলাম।
চারদিকে প্রচন্ড অন্ধকার।
দুইহাত সামনে কি আছে সেটাও দেখা যাচ্ছেনা।
আমি আর বাবুল ভাই নদীর পাড় ধরে ধরে মাছ ধরছি।
সা-ঝাঁক পানিতে বাবুল ভাইয়ের কুঁচ মারার শব্দে বুকের ভিতর কেমন জানি করে উঠে। বাবুল ভাই ফিসফিসিয়ে বলতে লাগলো আজকে মাছ বেশী। অল্প সময়ের মাঝেই খালই
ভরে গেলো। আমরা বাড়িতে আসার জন্য রওনা হলাম।
চরের মাঝখানেই মিসির কাকার শশান।
আমরা তাই হেকিমদের বাড়ির পাশ দিয়ে আসার মনস্থির করেছি।
অন্ধকার ভেদ করে কিছুই দেখা যাচ্ছেনা।
আমরা হাঁটছি। হঠাৎ........... হঠাৎ আমরা লক্ষ্য করলাম যে আমরা মিসির কাকার শশানের সামনে হাজির। অল্পের জন্য নাভি ঢেকে রেখেছে যে পাত্রটা দিয়ে সেটার উপর আমি লাত্থিই মেরে দিছিলাম।
সাদা কাপড় দিয়ে ঘেরা জায়গাটা থেকে উদ্ভুধ ধূপের গন্ধ বের হচ্ছে। বাবুল ভাই শুধু বললো রাস্তা হাট।
আমি অবাক হয়ে গেলাম এত সতর্কতার মাঝেও এইখানে কিভাবে আসলাম।
খেয়াল করলাম আমার বামে দিয়ে কেউ হাটছে। বাবুল ভাই আমার ডানপাশে।
আমি বাবুল ভাইকে টর্চটা দিতে বললাম।
কেন সে আমার কাছে জানতে চাইলে বললাম মাছ গুলো দেখতে।
সে বললো দেখলানা খালই ভরপুর। আমি আবার বললে লাইটটা আমার কাছে দিলো।
আমি কৌশলে বামে লাইট মারলাম যাতে বাবুল ভাই কিছু না বুঝে।
শুধু দেখলাম আমার লাইটের আলোর বাইরে একটা কালো হাতির মতো কিছু একটা গড়িয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে।
আমি আল্লার নাম ঝপা শুরু করলাম।
এই ক্ষেতে আমি কখনই মাছ দেখি নাই।
আজকে এতো মাছ দেখে আমি অবাক। শিং, মাগুর, বড় বড় টাকি....... বাবুল ভাই এই মাছ না ধরে কিছুতেই যাবেনা। আমি বুঝতে পারছিলাম কোন একটা সমস্যা আছে।
তাই বাবুল ভাইকে বললাম তুমি না আসলে আমি একাই চলে যাবো।
শেষে বাবুল ভাই রাগ করে আমার সাথে আসতে লাগলো।
এত রাতে চরের ভিতর খাঁচা দেখে আমরা অবাক হয়ে গেলাম।
আশ্চর্যের বিষয় হলো খাচাটি বার বার আমাদের সামনেই লক্ষ্য করি। শেষে বাবুল ভাই রাগ করে খাঁচাটি কুঁচ দিয়ে উল্টে দিলো।
যা দেখলাম তাতে দুইজনের মুখ দিয়ে আর কোন সাউন্ড বের হলো না।
সোজা হাটা শুরু করলাম এবং বাজারে এসে পৌছালাম।
পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনি গতরাতে চড়ের ভিতর অনেক কিছু ঘটেছে এর মাঝে দুইজনকে নাকি গাছে হাত-পা বাধা অবস্থায় পাওয়া গেছে। মজিদ ভাই আর
আজিতকে গাছ থেকে নামানোর পর ১০ দিন তারা কোন কথায় বলে নাই।

লেখক
ইউনুস খান

                                   যোগসূত্র                                        

আমার দাদার বাড়ি মুনশিগঞ্জ জেলায় । দাদারা চার ভাই। কোন বোন নেই। যদিও দাদার মা তিন মেয়ে সন্তান জন্ম দেন, কিন্তু কোন এক অজানা কারণে তার কোন মেয়েই জন্মের পর বেশিদিন বাঁচত না ।তারা মারা যেতো বিভিন্ন দুর্ঘটনায়। এবং সেই সব দুর্ঘটনার কথা শুনলে আসলেই মনে হয় এদের মৃত্যুর পিছনে অন্য কোন অশুভ শক্তির হাত আছে। আমি বড় হয়ে দাদা ভাইয়ের কাছে এই ঘটনাগুলো শুনেছিলাম। যেভাবে শুনেছি ঠিক সেভাবেই বলছি।
প্রথমে দাদা ভাইয়ের যে বোন হয় অর্থাৎ বড় মায়ের প্রথম সন্তান তার জন্মের ঠিক ৩ মাস পরের ঘটনা। ঘরে শুধু দাদা ভাইয়ের আম্মু আর উনাদের এক কাজের মেয়ে। কাজের মেয়ে বড় মা(দাদা ভাইয়ের আম্মু)কে সাহায্য করছিল রান্নার কাজে। বড় মা রান্না শেষে ঘরে গিয়ে দেখেন তার মেয়েটা নেই। তিনি চিৎকার করে উঠেন এবং দরজা খুলে বের হন। বের হয়ে বাড়ির বাকি সবাইকে ডেকে একত্রে করেন ।সবাই ঘরের আঁতিপাঁতি করে খুঁজেও কোথাও মেয়েটিকে পায় না। অবশেষে পুকুরপাড় থেকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। পানিতে ডুবে মৃত্যু এমনটাই ছিল কারণ। কিন্তু ৩ মাসের একটি বাচ্চা কিভাবে এতদুর গেলো? ঘরের দরজা লাগানো ছিল এবং ঘরে শুধু দুজন মানুষ ছিল। মাত্র ১০ মিনিট রান্নাঘরে ছিলেন তারা ।তাতেই এতকিছু ঘটে গেলো।
বড় মার দ্বিতীয় মেয়েটি হয় তিন নম্বরে ।অর্থাৎ এর মাঝে দাদা ভাই এবং উনার এক ভাই হয়েছেন। সেই মেয়েটি কিছুদিন বেঁচে ছিলো। বয়স যখন ১ বছর তখন বড় মা মেয়েকে নিয়ে উঠোনে বসে ছিলেন । উনি সুপারি কাটছেন আর পাশে বসে তার মেয়ে একটিপুতুল দিয়ে খেলছে। বড় মা সুপারি কাটতে কাটতে হটাত খেয়াল করলেন তার মেয়ে তার পাশে নেই। তিনি যেখানে বসে ছিলেন সেখান থেকে পুরো উঠোন দেখা যায়। এভাবে গায়েব হয়ে যাবার প্রশ্নই উঠে না। সেই মেয়ের কোন ঠিকানাই পাওয়া গেলো না। বড় মা প্রায় মৃত্যুর দশায় চলে গেলেন। কিছুদিন পর খড়ের গাদা (যেখানে গরুর খড় জমা করে টালি দিয়ে রাখা হয়) থেকে কেমন বিচ্ছ্রি গন্ধ বের হতে লাগলো। মানুষজন কৌতূহলী হয়ে খড়ের গাদা সরালে সেখান থেকে বড় মার দ্বিতীয় মেয়ের লাশ পাওয়া যায়।
বড় মার তৃতীয় মেয়েটি ছিল সবার ছোট। এই মেয়েটি বেঁচে ছিলো অনেকদিন। তাকে সারাদিন অনেক চোখেচোখে রাখা হত।একা কোথাও যেতে দেয়া হতো না। কেউ না কেউ আঠার মতো লেগে থাকতো। সেই মেয়ে একদিন ঘরের মধ্যে আত্মহত্যা করে মারা যায়। ফ্যানের সাথে ফাঁস লটকে। ঘরের দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল। রাতে খাবারের সময় ডাক দিলে পাওয়া না গেলে সবাই মিলে দরজা ভেঙে ফেলে এবং সেখান থেকে বেরকরে ঝুলন্ত লাশ।
আমি জানি না আমার বড়মা কিভাবে এসব সহ্য করেছিলেন। উনাকে এই ব্যপারে কখনো কথা বলতে দেখি নি কেউ। উনি নাকি খুব স্থির হয়ে গিয়েছিলেন। কারো সাথেই কথা বলতেন না একদম। আমি নিজেও একজন মেয়ে। মনে হয় না আমার সাথে এমনটা ঘটলে কখনো মেনে নিতে পারতাম। আল্লাহ আমার বড় মাকে অনেক কষ্ট দিয়েছেন। জানি না কি তার কারণ।
দাদা ভাইয়ের কাছ থেকে এসব শোনার পর অনেক ভেবেছি। কিন্তু কিছু বুঝে পাই নি। একই পরিবারে এতো মানুষ কিভাবে এমন ভাবে মারা যেতে পারে?

লেখক
আফরোজা সুলতানা নিধি


                       মসজিদে জিন                                             


আজকে আমার একটা Personal Experience Share করছি ।আমার বাসা গেন্ডারিয়ায় ।আমার বাসার সামনেই একটা বড় আর সুন্দর মসজিদ আছে ।এক শবে বরাতের রাতে আমি চিন্তা করলাম সারা রাত মসজিদে থাকবো,নামাজ পরব আর কুরআন হাদীস পরব ।সেই ভাবেই গেলাম মসজিদে ।রাত প্রায় ২.৩০ পর্যন্ত কিছুই হল না ।Everything was normal.রাত ২.৩০ তার কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ চলে গেল ।Emergency Power Supply এ মসজিদের প্রথম সাড়ির কয়েকটা Light জ্বলে উঠল ।কিন্তু আমি যে জায়গায় ছিলাম সেই জায়গাটা ছিল অনেক পেছনে জানালার পাশেই তাই সেখানে ওই Light এর আলো না গেলেও বাইরের চাদ এর আলো কিছুটা এসে পরছিল আর সেই আলোতে আমাদের ছায়া দেখা যাচ্ছিল ।আমি নামাজে দাড়ানোর পর যখন রুকুতে গেলাম তখন হঠাৎ খেয়াল করলাম যে আমার সামনে যে লোকটা দাঁড়ানো তার পা দুটো উলটা অর্থাৎ পা দুটো যেন আমার দিকে face করা ।প্রথমে আমি মনে করলাম যে হয়তো হ্যালুসিনেশন হবে ।তাই কিছু মনে না করে নামায চালিয়ে যেতে থাকলাম ।যখন প্রথম সিজদা দিয়ে উঠলাম তখন ও same জিনিসটাই দেখলাম আর যারা নামাজ পড়েন তারা জানেন যে নামায এর যে জায়গা থাকে সেটা যদি ছোট হয় তাহলে সিজদা দেবার সময় মাথা সামনের লোকের পা এর সাথে লেগে যায় ।আমি যখন দ্বিতীয় সিজদা দেই তখন আমার স্পষ্ট মনে হয় যে আমার মাথা কারো পায়ের আংগুল এর উপর পড়ল ।তারপর আবার খেয়াল করলাম যে লোকটার কোন ছায়া দেখা যাচ্ছেনা ।তখন আমি মোটামুটি ভয় পেয়ে গেছি ।তাই আমি যত তাড়াতাড়ি বের হওয়া যায় তত তাড়াতাড়ি বের হওয়ার চিন্তা করলাম ।সেদিন আমার সাথে মসজিদে আমার বাবা বা ভাই ছিলনা কিন্তু ১ জন friend ছিল ।তাই আমি নামাজ শেষ করে ওকে বললাম যে চল,বাসায় চলে যাই,ভাল লাগছে না ।কিন্তু ওকে কিছুই বললাম না ।ও আমাকে বলল যে,তুই বাইরে দাড়া,আমি আর দুই রাকাত নামায পরে আসছি ।আমি কথামত মসজিদের গেট এর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকলাম ।তখন দেখলাম যে একজন মোটামুটি লম্বা একজন মানুষ আসছে ।আমার height 5’10’’ এর মত আর তিনি ছিলেন আমার চেয়ে প্রায় এক ফুট লম্বা ।আর যখন আমি নামাজ পরেছি তখন আমি তার পেছনে ছিলাম বলে তার চেহারা দেখতে পাইনি ।এবার দেখলাম যে তার চেহারা খুবই সুন্দর এবং মুখভর্তি দাড়ি ।তিনি এসে আমার কাধে হাত দিলেন এবং বললেন যে “বাবা, যা দেখেছ ভুলে যাও ।”আমার তখন সাহস হয়নি যে তার পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখব আর কেউ কোনভাবে যদি কাধের ওপর হাত দেয় তাহলে তার ওজন অনুভব করা যায় ।কিন্তু আমি কাধে কোন রকম ওজন অনুভব করতে পারলাম না ।কিন্তু আগে তার পা এর আংগুল অনুভব করেছিলাম। এরপর তিনি আমাকে cross করে চলে গেলেন ।আমি তার দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম কিন্তু তার পা এর দিকে তাকাই নাই ভয়ের কারণে ।তারপর আমি এক মূহুর্তের জন্য মসজিদ এর গেটের দিকে তাকালাম দেখার জন্য যে আমার বন্ধু আসছে কিনা ।এক সেকেন্ডের ব্যবধানে আবার রাস্তার দিকে তাকাতেই দেখি তিনি আর নেই ।অথচ আমাদের মসজিদ এর সামনের রাস্তা ছিল অনেক বড় যার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত স্পষ্ট দেখা যায়।
লেখক
আবিদ হাসান

                        পুকুরের ভূত                                          


এ ঘটনার সময় ১৯ এ জুলাই ২০০৯.আমরা তিন বন্ধু মিলে মাছ চাষ করার জন্য একটি পুকুর কিনেছিলাম ।পুকুরের পানি ছিল হাটুর উপর থেকে কোমর পর্যন্ত ।পুকুরের এক পাশে ছিল একটি পুরাতন হিন্দু বাড়ি এবং অপর
পাশে ছিল পরিত্যাক্ত বাড়ি যেখানে কেউ বাস করতনা এবং আরেক পাশে ছিল কচুর খেত ।পুকুরের মধ্যে অনেক কচুরিপানা এবং রাক্ষুসে মাছ ছিল ।তাই আমরা ঠিক করলাম পুকুরটা পরিষ্কার করার কিন্তু আমরা পুকুরটি পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হই । পরিষ্কার করার সময় পানি খাওয়ার উদ্দেশে হিন্দু বাড়িতে যাওয়ার পথে মাথায় কি জানি একটা জিনিস উপর থেকে পরে সাথে সাথে আমি অজ্ঞান
হয়ে যাই ।জ্ঞান ফিরার পর
আমি বুজতে পারলাম যে আমি রাস্তার উপরে পড়ে রয়েছি। জ্ঞান ফিরার পর আমি আমার বন্ধুদের কাছে ফিরে যাই ।এ ব্যাপারে আমি কারো সাথে কোনো আলাপ করিনি ।পুকুর পরিষ্কারে ব্যর্থ হবার কারণে পরের দিন আমরা পানি সেচার মেশিন ও দু জন লোক ঠিক করি ।কিন্তু মেশিন দিয়ে সারাদিন পানি সেচার পরও মাত্র আধা ইঞ্চি পানি কমে,সবার কাছে বেপার টা অস্বাভাবিক মনে হয় ।এর জন্য আমরা মাছ চাষ করার
পরিকল্পনা বাদ দেই ।তার কয়দিন পর জানতে পারি এখানে আমাদের
আগে আমদের কিছু এলাকার বড় ভাই মাছ চাষ করত,কিন্তু তারা হটাত করে মাছ চাষ করা বন্ধ করে দেয় ।বন্ধ করার কারণ আমাদের জানা ছিল না ।তাই কারণ জানার জন্য বড় ভাইদের
একজনকে জিজ্ঞাস করি কিন্তু
প্রথমে সে কিছু বলতে রাজি হলোনা ।তারপর আমার সাথে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা খুলে বলি ।তার পর সে মাছ চাষ বন্ধ করার কারণ বলতে রাজি হলো ।তারা তিন বছর আগে ওই পুকুরের মাছ
চাষ করত ।পাহারা দেওয়ার জন্য
প্রতি রাতে দুইজন করে থাকত ।রাতে থাকার জন্য তারা পুকুরের
মাঝে একটি বাসের ডেরা তৈরী করে ।একরাতের ঘটনা,সে রাতে রনি ভাই এবং অন্য আরেক জনের থাকার পালা ছিল ।কিন্তু একজনের
সমস্যা থাকার কারণে রনি ভাইকে একা থাকতে হয় ।রনি ভাই ছিল অনেক সাহসী এবং তার
হাতে ছিল একটি মাছ মারার টেটা ।মধ্যরাতে তিনি ডেরায় বসে সিগারেট টানছিলেন,এমন সময় তিনি পুকুরের মাঝখানে পানির ঝোপ ঝোপ আওয়াজ শুনতে পেলেন ।সে মনে করে চোর মাছ
চুরি করতে এসেছে ,তাই সে ডেরার নিচে নৌকা নিয়ে দেখতে যায় ।যাওয়ার পরে শব্দ বন্ধ হয়ে যায় এবং কিছুই দেখতে পায় না ।তার একটু ভয় লাগা শুরু
করে তখন সে ডেরার মাঝে ফিরে আসে ।আসার পর আবার সেই শব্দ আবার শুরুহয় ।তার ভয় আরো বেড়ে যায় ।সে এবার আর পানিতে নামে না উপর থেকেই দেখার চেষ্টা করে ওখানে কিসের শব্দ হচ্ছে ।কিছুক্ষণ পর সে দেখতে পেল কচু খেত থেকে একটি তিন অথবা চার বছরের
একটি বাচ্চা পানিতে লাফিয়ে লাফিয়ে গোসল করছে ।সে ভাবে আশেপাশে কোনো জনবসতি নেই
আর এত রাতে এই বাচ্চা কথা থেকে এলো ?একটু পর সে দেখতে পেল বাচ্চার সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে ।একজনের পর তিনজন দেখতে পেল ।তিন জন বাচ্চা পুকুরের পানিতে ঝাপা ঝাপি করছে ।তাদের পরনে কোনো কাপড় ছিল না ।তখন রনি ভাই বুজতে পারলেন যে,এগুলো মানুষের সন্তান না ।এক পর্যায়ে বড় ভাই তার হাতে থাকা টেটা দিয়ে বাচ্চা গুলোকে আঘাত
করার সিধান্ত নিলেন ।কিন্তু অজানা ভয় ও শংকার কারণে বাচ্চাদের আঘাত করা থেকে বিরত থাকলেন ।কিছুক্ষণ পর দেখতে পেলেন বাচ্চা তিনটি কোথায় যেন উধাও হয়ে গেছে ।রনি ভাই বুকে অনেক সাহস
নিয়ে ডেরার উপরে ফিরে গেলেন ।একসময়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন । খুব ভোরে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়
তিনি দেখতে পেলেন অনেক বৃষ্টি হচ্ছে ।তিনি বৃষ্টির মধ্যে বাসার
উদ্দশ্যে রওনা হলেন ।বাসায় যাওয়ার পথে তার মনে হলো কে যেন তার পিছু নিয়েছে,কিন্তু পিছনে তাকিয়ে কাউকে দেখতে পায় না ।পিছনে কে হাটছে এটা দেখার জন্য একটা দেয়ালের পিছনে লুকায় ।লুকানো অবস্থায় সে অনুভব করে তার পিছনে কে যেন দাড়িয়ে আছে ।মাথা ঘুরিয়ে তাকাতেই কে যেন তাকে প্রচন্ড জোরে চর মারে ।চর মারার পর রনি ভাই অজ্ঞান হয়ে যায় ।জ্ঞান ফিরার পর সে নিজেকে মসজিদে আবিষ্কার করে ।মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে শুনতে পায় একটা লোক তাকে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়ার পর মসজিদে নিয়ে আসে ।পরে আমার সে বড় ভাই ইমাম সাহেবের কাছে গত রাতের সব
ঘটনা খুলে বলে ।ঘটনা শুনার পর ইমামসাহেব বলে তোমার উপরে খারাপ জিন আসর করেছে এবং সে ইমাম সাহেবের কাছ থেকে আরো জানতে পারেযে পুকুরের
পাশের সেই হিন্দু বাড়িতে একটা বুড়ি মহিলা তার মেয়ে ও তিন নাতি বসবাস করত ।একপর্যায়ে বুড়ি মহিলার মেয়ে এবং নাতি তিনটি কলেরা রোগ হয়ে মারা যায় ।মারা যাওয়ার পর বুড়ি মহিলা কাউকে না জানিয়ে মৃত দেহ গুলো বাড়ির পাশের সেই কচু
খেতে পুতে রাখে ।ঘটনা শুনার পর রনি ভাই বুঝতে পারে যে,গত কাল রাতের বাচ্চা গুলো ছিল বুড়ির সেই মারা যাওয়া নাতি তিন জনের আত্মা ।


লেখক
মাতুয়াইল

                         কবরস্থান                                                


ছোটবেলা থেকেই ব্যাখ্যার অতীত বিষয়সমূহ নিয়ে আমার সীমার অতীতআগ্রহ ! এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে আমার কোন ক্লান্তি নেই। তাই রহস্যের খোঁজ পেলে আর দেরি করি না, ছুটে যাই ঘটনাস্থলে। আর এধরণের ঘটনা সংগ্রহের জন্য নানা ধরণের লোকের সাথেই কথা বলতে হয়। এবারও তেমনি এক লোকের সাথে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলার সুযোগ এসে গেল। লোকটির নাম করিম মিয়া। তিনি মৃত মানুষের জন্য কবর খোঁড়া এবং দাফন কাজ সমাধা করেন। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি একাজ করে আসছেন। আর আমি যে ধরণের গল্পের জন্য হয়রান সে ধরণের ঘটনা তার জীবনের নিত্য-নৈমিত্তিক ­ ব্যাপার। গত বছর আমার এক আত্মীয়ের লাশ দাফনের সময় তার সাথে পরিচয়। তখন তার মুখে বেশ কিছু কাহিনী শোনা হয়। যদিও তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ানক কাহিনী সেবলতে চায়নি সেদিন; অনেক জোর করারপরও। আমি আমার মোবাইল নাম্বার তাকে দিয়ে আসি এবং প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে বলি। এর মাঝে কেটে গেছে অনেকদিন। তার কথা প্রায় ভুলেই গেছিলাম। হঠাৎ গতকাল অচেনাএকটা নাম্বার থেকে ফোন পেলাম । হুম, সেই লোকের ফোন ! তার চেয়ে বড় কথা তিনি তার ঘটনাটি আমাকে বলতে চান। এই ঘটনা কাউকে না বলে নাকি তিনি শান্তি পাচ্ছেন না। তাছাড়া অন্য কেউ এই ঘটনা বিশ্বাসও করবে না।
তো পরদিনই দেখা করার সিদ্ধান্ত নিলাম। করিম মিয়া বলল যে কবরস্থানে তিনি এ ঘটনার শিকার সেখানেই তিনি এ কাহিনী বলতে চান। আর সময়টাও রাতে হলে তার জন্য ভালো হয়। আমার কোন আপত্তি ছিল না। সময় ঠিক করলাম রাত ১২ টা।
আমি পৌঁছে গেছিলাম সময় মত। কবরস্থানের একটু সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। বেশ রাত, আর জায়গাটাও কেমন নির্জন। তাই একটুঅস্বস্তি হচ্ছিল। যদিও সেসবে পাত্তা দিলাম না। একটু পর ধীর পায়ে কারও এগিয়ে আসার শব্দ পেলাম। হ্যাঁ, করিম মিয়াই হবে। ছোটখাটো গড়নের করিম মিয়া ধীর পায়ে এগিয়ে আসছিল। কাছে এসে বলল, “ভাইসাব, একটু দেরি কইরা ফেললাম।” এই বলে আমাকে নিয়ে কবরস্থানের একটু সামনে বসার মত একটা জায়গায় বসে পড়ল। কোন রকম ভূমিকা ছাড়াই সে তার কাহিনী শুরু করল......
(এখানে করিম মিয়ার ভাষায় আঞ্চলিকতা উহ্য রাখা হল)
___সেদিন ছিল পূর্ণিমা। চাঁদের পূর্ণ আলোয় সবকিছু পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল। আমি আর আমার নিত্যদিনের সঙ্গী জহির মিলে একটাকবরে বেড়া লাগানোর কাজ শেষ করে বাসার দিকে রওনা হলাম। কবরস্থানের গেটের কাছে এসে দেখলাম দুইজন লোক দাঁড়িয়ে আছে।তাদের পরনে সাদা পাঞ্জাবী, মুখে শুভ্র দাড়ি। তাদের হাতে একটা লাশ কাফনে মুড়িয়ে রাখা। দেখে বুঝলাম কোন বাচ্চার লাশ হবে। তারা বলল বাচ্চার লাশ দাফন করতে হবে। আমি বললাম লাশ দাফনের আগে স্থানীয় হুজুরের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। আমি লোক দুজনকে দাঁড়াতে বললাম।হুজুরের বাসা একটু সামনেই। আমি আর জহির হুজুরের বাসার দিকে হাঁটা দিলাম।যাওয়ার সময় দেখেছিলাম লোক দুটিগেটের সামনেই দাঁড়িয়ে।
হুজুরের সাথে কথা হল। তিনি আমাদেরকে তিনি আমাদেরকে কবরস্থানে গিয়ে দাঁড়াতে বললেন। তিনি কিছুক্ষণ পর এসে লোকগুলোর সাথে কথা বলবেন।
তো আমরা আবার ফিরে চললাম। রাত তখনআরেকটু গভীর। চারপাশ চাঁদের আলোয় ভিন্ন অবয়ব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা কবরস্থানের গেটের সামনে এসে দাঁড়ালাম। কিন্তু সেই দুই লোককে কোথাও দেখতে পেলাম না। একটু অবাক হলাম। জহির গেট খুলে কবরস্থানের ভিতর ঢুকল। আমি বাইরেই খুঁজতে লাগলাম তাদের। তাদের তো ভিতরে ঢুকার কথা নয় ! অনেক খুঁজেও না পেয়ে ধীর পায়ে কবরস্থানের ভিতরে ঢুকলাম। সেই সময় জহিরের বিকট চিৎকার শুনলাম। একটা চিৎকারই কানে আসল। দৌড়ে গেলাম চিৎকার লক্ষ্য করে। কিছুদূর যাওয়ার পর চোখের সামনে যে দৃশ্য দেখতে পেলাম, তাতে সর্বাঙ্গে কাঁপন ধরে গেল। সেই লোকদুটির হালকা অবয়ব চোখে পড়ছিল, তারা পেছন দিকে মুখ করে আছে। তাদের হাতে সেই বাচ্চার কাফনে মোড়ান লাশ। লাশের উপরের দিকে কাপড় ছিঁড়ে নেয়া হয়েছে।মাথাটা আলগে ধরে দুজনে মিলে গভীর আগ্রহে লাশটিকে নখ দিয়ে আঁচড়ে ক্ষত-বিক্ষত করছে। তাদের মুখ থেকে একধরণের জান্তব এবং উল্লাসিত গোঁ গোঁ জাতীয় আওয়াজ ভেসে আসছিল। একটু পাশেই পড়ে আছে জহিরের নিথর দেহ। প্রাণ আছে কিনা ঠিক বোঝা গেল না। এসব দৃশ্য আমার পক্ষে সহ্য করা সম্ভব হচ্ছিল না। অবস্থা এমন, যে অজ্ঞান হতেও ভুলে গেছি !!
মনে হচ্ছিল দাঁড়িয়ে থেকেই মৃত্যু ঘটবে আমার ! আমার শ্বাস-প্রশ্বাসে ­র গভীর আওয়াজে হঠাৎ সেই জন্তুগুলো ঘুরে তাকাল আমার দিকে। সে এক অদ্ভুত, ভয়ংকর চেহারা। ঘাড়ের উপর গোলাকার এক মাংসের স্তূপ। সেখানে চোখ, নাক, ঠোঁটের কোন অস্তিত্ব নেই। ঘাড়েরউপরে মাংসের পিণ্ডটি অনেকটা তরল জাতীয়, কেঁপে কেঁপে উঠছে ! তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাল; চোখহীন অথচ ভয়ানক প্রখর সে দৃষ্টি, মুখে সূক্ষ্ম হাসির রেখা।
আর সহ্য করা সম্ভব হল না। নিঃশব্দে লুটিয়ে পড়লাম মাটিতে। এরপর আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান ফিরলে নিজেকে হাসপাতালে দেখতে পাই। আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন সেই হুজুর। জহিরকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাদেরকে আমি কিছু জানাই নি। শুধু বলেছি ভয়ংকর কিছু ঘটেছিল। হুজুর আর আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করেননি। এই ঘটনা আর কাউকে বলতে পারিনি। আজ আপনাকে বলে স্বস্তি পেলাম......
ঘটনা শুনতে শুনতে নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেছিলাম। বড় একটা নিঃশ্বাসনিয়ে বললাম, বড় অদ্ভুত কাহিনী। ঠিক বিশ্বাস হয় না !
করিম মিয়া হেসে উঠে বলল, না হইলেই ভালো। অনেক রাত হইছে, আপনারফিরা উচিত।
তার এ কথায় সম্বিত ফিরে পেলাম। আসলেই অনেক রাত। উঠে দাঁড়ালাম আমি; ফিরতে হবে।
করিম মিয়া, যাই তাহলে। আপনার সাথে পরে একদিন এই বিষয়ে আরও কথাবলব।
উঠে দাঁড়াতেই মোবাইল বেজে উঠল। অচেনা একটা নাম্বার থেকে কল। কল ধরতেই পরিচিত এক কণ্ঠ বলে উঠল, ভাইজান ! বড় বিপদে পইরা গেছি। আজকে আর আসতে পারলাম না ! ঘটনা হইছে কি......
ঘটনা কি, তা আর শোনা হল না। মোবাইলমাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। আমার বিস্ফোরিত চোখ করিম মিয়ার দিকে।করিম মিয়া ধীরে ধীরে মুখ তুলে আমার দিকে তাকাল। তার ঘাড়ের উপর মাংসের দলা কিলবিল করছে। মুখে অপার্থিব এক ব্যাঙ্গের হাসি, চোখহীন অথচ তীব্র এক দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে...!